চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ (ইআইবি) জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় নির্বাচনি জোট থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বেরিয়ে গেছে।
গত ১৬ জানুয়ারি দলের শীর্ষ নেতৃত্ব ২৬৮টি আসনে এককভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে। এরপর থেকেই জোটে ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়।
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আহসান মাহবুব জুবায়ের জানান, ইসলামী আন্দোলনকে জোটে ফেরাতে উচ্চ পর্যায়ে আলোচনা চলছে। এছাড়া জোটের অন্যতম দলের এনসিপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সভাপতি আসিফ মাহমুদও আশা প্রকাশ করেন যে, দলটি আবার জোটের সঙ্গে যোগ দিতে পারে। তবে এসব বক্তব্যের পরও দলের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্তের বিষয়ে অনিশ্চয়তা ছিল।
এই অনিশ্চয়তাকে চূড়ান্ত করে দলটির সাংগঠনিক সম্পাদক ইফতেখার মাহমুদ তারেক একটি গণমাধ্যমকে স্পষ্ট করে বলেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ জোটে ফেরার কোনো সম্ভাবনা নেই। তিনি জানান, তারা ২৬৮টি আসনে ‘হাতপাখা’ প্রতীকে এককভাবে নির্বাচনে অংশ নেবে এবং জোটে ফেরার ব্যাপারে দলটি কোনো ভাবেই প্রস্তুত নয়।
ইফতেখার মাহমুদ তারেক বলেন, “জোট প্রত্যাহারের পরে আমরা ২৬৮ আসনে হাতপাখা প্রতীকে নির্বাচন করব।
সেখানে সমঝোতা নিয়ে আবারও এ জাতীয় কোনো কূপে পা দেওয়ার ইচ্ছা দলের নেই। পর্যালোচনার পর মতামত নিয়ে আমরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। অতএব আর কোনো সম্ভাবনা দেখি না।” তিনি আরও জানান, দলটি এখন নিজস্ব পরিকল্পনা ও কৌশল নিয়ে নির্বাচনী প্রস্তুতি শুরু করেছে এবং ভোটের মাঠে নিজেদের শক্তি প্রমাণ করতে চায়।
রাজনীতিবিদ ও বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জোট থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর ইসলামী আন্দোলন একদিকে তাদের নিজস্ব ভোট শক্তি পরীক্ষা করতে চাচ্ছে, অন্যদিকে দলটি নির্বাচনী জোটের মধ্যে থাকা অবস্থায় যে সমঝোতা-আলোচনার চাপ ও আদেশ-নির্দেশের সীমাবদ্ধতা ছিল, সেগুলো থেকে মুক্তি পেতে চাইছে। ফলে তারা এককভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে।
এদিকে, জোটের অন্য দলগুলো এখনও ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে সম্পর্ক পুনরায় গড়ার জন্য কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। তবে ইআইবি’র স্পষ্ট সিদ্ধান্তের পর রাজনৈতিক মহলে জোটের ভবিষ্যত ও নির্বাচন কৌশল নিয়ে নতুন বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে।
সার্বিকভাবে বলা যায়, জোটে ফেরার যে সম্ভাবনা জোরালোভাবে আলোচিত হচ্ছিল, তা এখন প্রায় শূন্যের কোটায় এসে দাঁড়িয়েছে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ নিজস্ব প্রার্থীর তালিকা নিয়ে নির্বাচনী মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং ২৬৮ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাধ্যমে তাদের রাজনৈতিক প্রভাব বজায় রাখতে চাইছে।




