ঢাকা | শনিবার
৩১শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৭ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

হজে বিমান ভাড়া কমলো

চলতি বছরের পবিত্র হজ উপলক্ষে আগামী ১৮ এপ্রিল থেকে হজ ফ্লাইট শুরু হবে। রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস তাদের নিজস্ব উড়োজাহাজে হজযাত্রী পরিবহনে সম্পূর্ণ প্রস্তুত এবং হজ ফ্লাইটকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে বলে বিমান কর্তৃপক্ষ ও ধর্ম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। এ বছর বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস তাদের নিজস্ব বোয়িং ৭৭৭-৩০০ ইআর উড়োজাহাজ দিয়ে হজ ফ্লাইট পরিচালনা করবে। মোট ৭৮ হাজার ৫০০ হজযাত্রীদের মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ৩৯ হাজার ২০০ জনকে পরিবহন করবে, বাকিটা সাউদিয়া এয়ারলাইনসের মাধ্যমে হবে। প্রি-হজ ফ্লাইট চলবে ২১ মে পর্যন্ত, আর ফিরতি হজ ফ্লাইট ৩০ মে থেকে শুরু হয়ে ৩০ জুন পর্যন্ত চলবে। ঢাকা ছাড়াও চট্টগ্রাম ও সিলেট থেকে হজযাত্রী পরিবহন করবে বিমান এবং মোট ১০৮টি ফ্লাইটে এই কার্যক্রম পরিচালিত হবে। হজ ফ্লাইটকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়ায় এ বছর ঢাকা-ম্যানচেস্টার রুটের ফ্লাইট সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, পাশাপাশি উড়োজাহাজ স্বল্পতার কারণে কিছু আন্তর্জাতিক রুট রিসিডিউল করা হচ্ছে।

তবে বিমান আশা করছে, এবার হজ ফ্লাইট পরিচালনায় তারা লাভজনক অবস্থায় থাকবে, কারণ ঢাকা-জেদ্দা রুটে হজযাত্রীদের সঙ্গে নিয়মিত যাত্রীরাও পরিবহন করা হবে। মোট ফ্লাইটের মাত্র ৫ শতাংশই ডেডিকেটেড হজ ফ্লাইট হবে। ২০২৬ সালের জন্য হজযাত্রীপ্রতি বিমান ভাড়া কমিয়ে ১২ হাজার ৯৯০ টাকা করা হয়েছে। এ বছর মোট হজযাত্রী ৭৮ হাজার ৫০০ জনের মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৫ হাজার এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৭৩ হাজার ৫০০ জন হজে যাবেন।

ধর্ম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হজ এজেন্সি ও এয়ারলাইনসগুলোকে সৌদি সরকারের নির্দেশনা ও হজ প্যাকেজ ও গাইডলাইন-২০২৬ কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে। গত সপ্তাহে এ সংক্রান্ত চিঠি হজ এজেন্সি মালিক ও হজযাত্রী পরিবহনকারী তিনটি এয়ারলাইনসের কাছে পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের হজ ফ্লাইট ১৮ এপ্রিল থেকে শুরু হবে এবং এক সার্ভিস কোম্পানির হজযাত্রী একই ফ্লাইটে পাঠাতে হবে। প্রত্যেক এজেন্সিকে হজযাত্রীর নির্দিষ্ট অংশ প্রি-হজ ফ্লাইটের মধ্যবর্তী পর্যায় ও প্রথম ও শেষ পর্যায়ে পাঠাতে হবে; প্রথম বা শেষ পর্যায়ে ৩০ শতাংশের কম বা ৫০ শতাংশের বেশি টিকিট ইস্যু করা যাবে না।

এ বছর সরকারি মাধ্যমে হজ প্যাকেজ-১ (বিশেষ), প্যাকেজ-২ ও প্যাকেজ-৩ নামে তিনটি প্যাকেজ নির্ধারণ করা হয়েছে। প্যাকেজ-১ এ মক্কায় হারাম শরিফের ৭০০ মিটার মধ্যে ও মদিনায় সেন্ট্রাল এলাকায় আবাসন, অ্যাটাচড বাথরুমসহ এক রুমে সর্বোচ্চ পাঁচজনের ব্যবস্থা এবং মিনায় জোন-২-এ তাঁবু; খরচ ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯০ হাজার ৫৯৭ টাকা। প্যাকেজ-২ এ মক্কায় ১.২ থেকে ১.৮ কিলোমিটার ও মদিনায় সেন্ট্রাল এলাকায় আবাসন, এক রুমে সর্বোচ্চ ছয়জন এবং মিনায় জোন-২; খরচ ৫ লাখ ৫৮ হাজার ৮৮১ টাকা। প্যাকেজ-৩ সাশ্রয়ী হিসেবে মক্কায় আজিজিয়া ও মদিনায় মারকাজিয়া এলাকার বাইরে আবাসন, এক রুমে ছয়জন এবং মিনায় জোন-৫-এ তাঁবু; খরচ ৪ লাখ ৬৭ হাজার ১৬৭ টাকা। প্যাকেজ-১ ও ২-এ উপযুক্ত অর্থ পরিশোধে রুম আপগ্রেডেশন ও শর্ট প্যাকেজ সুবিধা নেওয়া যাবে, যেখানে সাধারণত সৌদি আরবে অবস্থানকাল ৩৫ থেকে ৪৭ দিন; শর্ট প্যাকেজে ২২ থেকে ৩০ দিন।

বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় যারা হজে যেতে চান, তাদের জন্য হজ এজেন্সিস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব) তিনটি প্যাকেজ ঘোষণা করেছে—বিশেষ প্যাকেজের খরচ সাড়ে সাত লাখ, সাধারণ প্যাকেজ সাড়ে পাঁচ লাখ এবং সাশ্রয়ী প্যাকেজ পাঁচ লাখ ১০ হাজার টাকা। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) বুশরা ইসলাম বলেন, বিমান কোনো সমস্যা ছাড়াই নির্বিঘ্নে হজযাত্রী পরিবহন নিশ্চিত করতে চায়; হাজিরা আল্লাহর মেহমান, তাদের সর্বোচ্চ সেবা দেওয়া বিমান কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব।

সংবাদটি শেয়ার করুন