গাজা উপত্যকার পুনর্গঠনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্যোগে গঠিত ‘বোর্ড অব পিস’ বা তথাকথিত ‘শান্তি বোর্ড’-এ সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারকে অন্তর্ভুক্ত করার ঘোষণার পরই আন্তর্জাতিক মহলে সমালোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
টনি ব্লেয়ারের নাম উঠে আসতেই আরব বিশ্ব ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। কারণ, ২০০৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে ইরাক আক্রমণ ও দখলদারির সময় ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন ব্লেয়ার। সে যুদ্ধ শুরু হয়েছিল ইরাকে গণবিধ্বংসী অস্ত্র থাকার অভিযোগের ভিত্তিতে, যা পরবর্তীতে মিথ্যা প্রমাণিত হয়। এই প্রেক্ষাপটে অনেকের কাছেই ব্লেয়ার এখনো ‘যুদ্ধাপরাধের প্রতীক’ হিসেবে বিবেচিত।
প্রধানমন্ত্রীত্ব ছাড়ার পর ব্লেয়ার প্রতিষ্ঠিত টনি ব্লেয়ার ইনস্টিটিউট ফর গ্লোবাল চেঞ্জ (টিবিআই)–এর কর্মকাণ্ড নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে সমালোচনা চলছে। অভিযোগ রয়েছে, এই প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন কঠোর ও স্বৈরাচারী শাসকের ভাবমূর্তি আন্তর্জাতিক মহলে গ্রহণযোগ্য করে তুলতে পরোক্ষ ভূমিকা পালন করেছে।
সম্প্রতি এই ইনস্টিটিউটের নাম উঠে এসেছে গাজার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা–সংক্রান্ত একটি উদ্যোগে, যা ইসরাইলঘেঁষা বলে দাবি করছেন সমালোচকরা। ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, টিবিআই একটি বিতর্কিত বেসরকারি প্রস্তাবের সঙ্গে যুক্ত ছিল, যেখানে যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজাকে একটি বাণিজ্যিক ও পর্যটন কেন্দ্রে রূপান্তরের ধারণা তুলে ধরা হয়।
ওই পরিকল্পনা নথিতে গাজাকে ‘ট্রাম্প রিভিয়েরা’ নামে উল্লেখ করা হয়। ইসরাইলি ব্যবসায়ীদের সমর্থন ও বোস্টন কনসালটিং গ্রুপের সহায়তায় তৈরি প্রস্তাবনায় এমন আর্থিক ও সামাজিক প্রণোদনার কথা বলা হয়েছে, যা ফিলিস্তিনিদের গাজা ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে উৎসাহিত করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশ্লেষকরা।
সমালোচকদের মতে, এই ধরনের পুনর্গঠন পরিকল্পনা আদতে মানবিক নয়; বরং এটি পুনর্গঠনের আড়ালে জাতিগত নির্মূল বা জনসংখ্যা স্থানান্তরের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। ফলে গাজা–সংক্রান্ত বোর্ডে টনি ব্লেয়ারের অন্তর্ভুক্তি শুধু একটি নিয়োগ নয়, বরং অঞ্চলটির ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর রাজনৈতিক ও নৈতিক প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ক্রমেই উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।




