ঢাকা | বৃহস্পতিবার
২৯শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৫ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রোহিঙ্গা গণহ’ত্যার অভিযোগ অস্বীকার মায়ানমারের

রোহিঙ্গা সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে গণহত্যা চালানোর অভিযোগ সরাসরি নাকচ করেছে মায়ানমার। শুক্রবার আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) দেশটির পক্ষ থেকে বলা হয়, রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে চালানো অভিযান কোনোভাবেই গণহত্যা নয়; বরং তা ছিল একটি বৈধ ও প্রয়োজনীয় ‘সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান’।

নেদারল্যান্ডসের হেগে জাতিসংঘের সর্বোচ্চ আদালতে মায়ানমার বর্তমানে দ্য গাম্বিয়ার আনা মামলার বিরুদ্ধে আত্মপক্ষ সমর্থন করছে। মামলাটিতে দ্য গাম্বিয়া অভিযোগ করেছে, রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে মায়ানমারের সামরিক কর্মকাণ্ড ১৯৪৮ সালের জাতিসংঘের গণহত্যা সনদের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

শুনানিকালে প্রেসিডেন্টের দপ্তরের মন্ত্রী কো কো হ্লাইং আদালতকে বলেন, এই মামলার রায় আবেগ বা অনুমানের ওপর নয়, বরং যাচাইযোগ্য ও প্রমাণিত তথ্যের ভিত্তিতেই হওয়া উচিত। তার ভাষায়, আবেগপ্রবণ বক্তব্য কিংবা অস্পষ্ট চিত্র বাস্তব ও কঠোর তথ্যের বিকল্প হতে পারে না।

মায়ানমারের পক্ষ থেকে আবারও দাবি করা হয়, ২০১৭ সালে দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর চালানো অভিযান ছিল ন্যায্য। ওই সময় রাখাইন রাজ্যে একের পর এক হামলায় এক ডজনের বেশি নিরাপত্তা সদস্য নিহত হন। এসব হামলার পর রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের নির্মূল করতেই ওই অভিযান চালানো হয় বলে দাবি করে দেশটি।

বিচারকদের উদ্দেশে হ্লাইং বলেন, উত্তর রাখাইন রাজ্যে সন্ত্রাসীদের অবাধ চলাচল মেনে নিয়ে মায়ানমারের চুপচাপ বসে থাকার কোনো আইনি বা নৈতিক বাধ্যবাধকতা ছিল না।

তিনি আরও ব্যাখ্যা করেন, যে অভিযানকে আন্তর্জাতিক মহলে ‘ক্লিয়ারেন্স অপারেশন’ বলা হচ্ছে, সেটি মূলত একটি সামরিক পরিভাষা—যার অর্থ বিদ্রোহ দমন কিংবা সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান পরিচালনা।

আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের বিচারকরা আগামী তিন সপ্তাহ ধরে মামলার প্রমাণ ও যুক্তি শুনবেন। এরপর তারা সিদ্ধান্ত নেবেন, রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সংঘটিত সহিংসতার মাধ্যমে মায়ানমার গণহত্যা সনদ লঙ্ঘন করেছে কি না।

গণহত্যা সনদ অনুযায়ী, কোনো রাষ্ট্র যদি মনে করে যে এই সনদের লঙ্ঘন হয়েছে, তবে সে অন্য যেকোনো রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে মামলা করতে পারে। এই আদালত মূলত রাষ্ট্রগুলোর মধ্যকার বিরোধ নিষ্পত্তির দায়িত্ব পালন করে।

তবে আদালতের চূড়ান্ত রায় পেতে কয়েক মাস থেকে কয়েক বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। যদিও আইসিজের নিজস্ব কোনো রায় কার্যকর করার ব্যবস্থা নেই, তবু দ্য গাম্বিয়ার পক্ষে রায় গেলে মায়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক ও রাজনৈতিক চাপ বহুগুণে বাড়বে।

শুনানির শেষদিকে কো কো হ্লাইং সতর্ক করে বলেন, যদি গণহত্যার অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তবে তা মায়ানমার রাষ্ট্র ও জনগণের জন্য এক গভীর ও স্থায়ী কলঙ্ক হয়ে থাকবে। তার মতে, এই মামলার ফলাফল শুধু অতীতের নয়, বরং দেশের সুনাম, আন্তর্জাতিক অবস্থান এবং ভবিষ্যতের দিকনির্দেশনার জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সংবাদটি শেয়ার করুন