আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের স্কোয়াড ডিসেম্বরের শেষ দিকে ঘোষণা করেছিল আফগানিস্তান। কাঁধের চোট কাটিয়ে নাভিন-উল-হকের দলে ফেরার সম্ভাবনা জাগলেও শেষ পর্যন্ত দুঃসংবাদই শুনতে হলো আফগান শিবিরকে। নতুন করে চোটে পড়ায় অভিজ্ঞ এই ডানহাতি পেসার বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেছেন।
আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (এসিবি) চোটের বিস্তারিত প্রকাশ না করলেও ইএসপিএন ক্রিকইনফো জানিয়েছে, চলতি মাসের শেষ দিকে অস্ত্রোপচার করাতে হবে নাভিনকে। ফলে মেগা টুর্নামেন্টে তার খেলার কোনো সুযোগ থাকছে না। এখনো বিকল্প খেলোয়াড়ের নাম ঘোষণা না করলেও ট্রাভেলিং রিজার্ভে থাকা এএম গাজানফার, ইজাজ আহমদজাই ও পেসার জিয়াউর রহমান শরিফির মধ্য থেকেই একজন মূল দলে সুযোগ পেতে পারেন।
বিশ্বকাপের আগে প্রস্তুতি হিসেবে ১৯–২২ জানুয়ারি আরব আমিরাতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলবে আফগানিস্তান। ওই সিরিজেও নাভিনের খেলা হচ্ছে না। অন্যদিকে জাতীয় দলের ডাকে দক্ষিণ আফ্রিকার এসএ টোয়েন্টি লিগ ছেড়ে ফিরছেন অধিনায়ক রশিদ খান। তিনি বর্তমানে এমআই কেপটাউনের নেতৃত্বে আছেন।
নাভিনের অনুপস্থিতি আফগানদের জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ফজলহক ফারুকির সঙ্গে তার পেস জুটি ছিল দলের অন্যতম ভরসা। স্কোয়াডে আজমতউল্লাহ ওমরজাই ও গুলবাদিন নাইবের মতো পেস অলরাউন্ডার থাকলেও সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটে ফারুকি–নাভিন জুটির বিকল্প খুঁজে পাওয়া কঠিন। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে জাতীয় দলের হয়ে সর্বশেষ খেলেছিলেন নাভিন, এরপর মেজর লিগ ক্রিকেট, এসএ টোয়েন্টি ও আইএল টি-টোয়েন্টিতে অংশ নেন তিনি।
জাতীয় দলের ক্যারিবীয় সিরিজে যোগ দিতে এসএ টোয়েন্টি ছাড়ছেন রশিদ খান। তার জায়গায় এমআই কেপটাউনে খেলবেন কাইরন পোলার্ড। তবে ৮ ম্যাচে মাত্র ২ জয়ে টেবিলের তলানিতে থাকা কেপটাউনের অবস্থা মোটেও ভালো নয়। একই পথে দেশে ফিরছেন পার্ল রয়্যালসের স্পিনার মুজিব-উর-রহমানও। আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি শুরু হতে যাওয়া বিশ্বকাপে আফগানিস্তান খেলবে ‘ডি’ গ্রুপে প্রতিপক্ষ দক্ষিণ আফ্রিকা, নিউজিল্যান্ড, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কানাডা।
সম্প্রতি খেলোয়াড়দের ফিটনেস ও মানসিক স্বাস্থ্যের কথা বিবেচনায় বিদেশি লিগে অংশগ্রহণ নিয়ে নতুন নীতি করেছে এসিবি। এখন থেকে আফগান ক্রিকেটাররা আফগানিস্তান প্রিমিয়ার লিগের পাশাপাশি সর্বোচ্চ তিনটি আন্তর্জাতিক লিগে খেলতে পারবেন। এতে আর্থিকভাবে কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার শঙ্কা থাকলেও দীর্ঘমেয়াদে ক্রিকেটারদের সুরক্ষাই লক্ষ্য বিশেষ করে টি-টোয়েন্টির সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি রশিদ খানের মতো তারকাদের ক্ষেত্রে।




