ঢাকা | বৃহস্পতিবার
২৯শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৫ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

গ্রিন কার্ড ও ভিসা স্থগিত : বাংলাদেশিদের জন্য অনিশ্চয়তার স্রোত

দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের সদস্যদের যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়ার অপেক্ষায় থাকা অনেক বাংলাদেশির জন্য নতুন সিদ্ধান্তে অনিশ্চয়তার আবহ তৈরি হয়েছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত প্রবাসীদের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক পরিকল্পনা থমকে গেছে, এবং কখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে তার কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা না থাকায় মানসিক চাপ বেড়েছে। এমনকি যারা বৈধভাবে গ্রিন কার্ড বা নাগরিকত্ব পেয়েছেন, তাদের মধ্যেও উদ্বেগ বিরাজ করছে, কারণ ট্রাম্প প্রশাসন পুরনো গ্রিন কার্ড ও নাগরিকত্ব পুনর্মূল্যায়নের ঘোষণা দিয়েছে।

মার্কিন প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের মূল কারণ হলো ‘পাবলিক চার্জ’ নীতি। এই নীতির আওতায় অভিবাসীরা যদি কাজ না করে সরকারি সাহায্য বা জনকল্যাণমূলক সুবিধার ওপর নির্ভরশীল হন, তাহলে তা অর্থনীতির ওপর চাপ তৈরি করে। বাংলাদেশের অভিবাসীদের মধ্যে অনেকেই এই ধরনের সুবিধা গ্রহণ করেন। নতুন ভিসা আবেদনকারীদের আর্থিক সক্ষমতা এখন অত্যন্ত কঠোরভাবে যাচাই করা হবে, এবং যারা আগে স্পন্সর করেছেন, তারা যদি সরকারি সহায়তা গ্রহণ করেন, তবে সেই দায়ভার স্পন্সরের ওপর আসতে পারে।

শিক্ষার্থীদের জন্যও পরিস্থিতি কঠিন হয়েছে। পড়াশোনা শেষে চাকরি খোঁজার সময়সীমা জটিলতার কারণে সীমিত হচ্ছে। গ্রিন কার্ডের জন্য স্ট্যাটাস পরিবর্তন করা ব্যক্তিদের দীর্ঘ অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকতে হবে। যারা বর্তমানে গ্রিন কার্ডধারী হলেও বাংলাদেশে ছুটিতে যেতে চান, তারা এখন দেশে ফেরার ক্ষেত্রে দ্বিধার সম্মুখীন হচ্ছেন, কারণ পুনরায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে আইনি জটিলতার আশঙ্কা রয়েছে।

এই স্থগিতাদেশ মূলত অভিবাসন বা ইমিগ্রেন্ট ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। তবে পর্যটক, ব্যবসায়িক ভ্রমণকারী এবং শিক্ষার্থীদের জন্য নন-ইমিগ্রেন্ট ভিসার ক্ষেত্রে কোনো সরাসরি নিষেধাজ্ঞা নেই। তালিকাভুক্ত দেশগুলোর নাগরিকরা এখনো ভিসার জন্য আবেদন বা সাক্ষাৎকার দিতে পারলেও, স্থগিতাদেশ চলাকালীন নতুন অভিবাসন ভিসা ইস্যু করা হবে না। এছাড়া দক্ষ কর্মীদের জন্য এইচ-ওয়ানবি ভিসার খরচও বৃদ্ধি করা হয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে প্রবেশের সুযোগকে আরও সীমিত করছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন