ঢাকা | বৃহস্পতিবার
২৯শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৫ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

যে আলোচনায় শেষ হলো বিসিবি ও ক্রিকেটারদের দ্বন্দ্ব

বোর্ড ও ক্রিকেটারদের মধ্যে আলোচনার ভিত্তিতে সমঝোতার পর আবার মাঠে ফিরছে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল)। ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (কোয়াব) এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) মধ্যে কয়েক দফা আলোচনা শেষে শুক্রবার থেকে বিপিএল ২০২৬ পুনরায় শুরু হচ্ছে।

বিসিবি জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার স্থগিত হওয়া ম্যাচগুলো নতুন সূচি অনুযায়ী শুক্রবার অনুষ্ঠিত হবে। এ কারণে টুর্নামেন্টের বাকি ম্যাচগুলোর সূচিতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। শুক্রবার থেকেই ঢাকায় বিপিএলের পর্ব শুরু হবে।

বিসিবির পরিচালক এম নাজমুল ইসলামের একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট সংকটের কারণে বৃহস্পতিবার বিপিএলের দুটি ম্যাচ মাঠে গড়ায়নি। ক্রিকেটাররা বয়কটের সিদ্ধান্ত কার্যকর করলে দিনের সব ম্যাচ স্থগিত করতে বাধ্য হয় বোর্ড। পরে সমঝোতার পর বিসিবি নতুন সূচি প্রকাশ করে।

বিসিবির সঙ্গে বৈঠকের পর কোয়াব সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুন জানান, ক্রিকেটের বৃহত্তর স্বার্থ বিবেচনায় ক্রিকেটাররা আবার মাঠে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি বলেন, এম নাজমুল ইসলামের মন্তব্য গ্রহণযোগ্য নয় এবং কোয়াব সেটিকে সমর্থন করে না। তবে বোর্ডের সঙ্গে গঠনমূলক আলোচনার মাধ্যমে একটি বাস্তবসম্মত সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে।

মিঠুন আরও বলেন, বোর্ড ক্রিকেটারদের দাবিগুলো দ্রুত প্রক্রিয়াগতভাবে এগিয়ে নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। সেই আশ্বাসের ভিত্তিতেই শুক্রবার থেকে আবার খেলায় ফেরার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বিসিবির অর্থ বিভাগের প্রধান এম নাজমুল ইসলাম ভারতের বিশ্বকাপে বাংলাদেশ অংশ না নিলে ক্রিকেটারদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে কি না—এ নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেন। এ মন্তব্যের জেরে তার পরিচালক পদ থেকে পদত্যাগের দাবিতে সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হলেও তিনি পদত্যাগ করেননি।

এরপর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড তাকে অর্থ কমিটির প্রধানের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয় এবং কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়। ক্রিকেটারদের সংগঠন কোয়াব এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে স্বাগত জানায়।

তবে কোয়াবের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিতর্কিত মন্তব্যের জন্য এম নাজমুল ইসলামের প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়া উচিত। বিসিবি সে দাবিতে রাজি না হলেও ক্রিকেটের স্বার্থে মাঠে ফেরার সিদ্ধান্ত নেয় ক্রিকেটাররা।

এ বিষয়ে বিসিবির সংবাদ সম্মেলনে পরিচালক ইফতেখার রহমান জানান, আপাতত এম নাজমুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তবে কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব তাকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দিতে হবে। এরপর তার বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাজনিত প্রক্রিয়া শুরু হবে।

ইফতেখার রহমান বলেন, বোর্ডের একজন পরিচালক হিসেবে এমন মন্তব্য অনাকাঙ্ক্ষিত এবং এটি করা উচিত হয়নি। তিনি আরও বলেন, ক্রিকেটারদের কারণেই আইসিসি অর্থ দেয়, স্পন্সর আসে এবং ক্রিকেট পরিচালিত হয়।

এদিকে বিবিসি বাংলাও এম নাজমুল ইসলামের প্রতিক্রিয়া জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তার পক্ষ থেকে কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

কোয়াব সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুন জানান, নাজমুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ সম্ভব হলে ক্রিকেটারদের দাবিগুলো দ্রুত প্রক্রিয়াগতভাবে সমাধানের আশ্বাস দিয়েছে বিসিবি।

এর পাশাপাশি কোয়াবের সংবাদ সম্মেলনে বয়কটের পেছনে আরও কয়েকটি কারণ তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে ঢাকার ক্রিকেটের চলমান সংকট, নারী ক্রিকেটে যৌন হয়রানির অভিযোগ, সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি এবং ফিক্সিংয়ের অভিযোগে অঘোষিত নিষেধাজ্ঞার বিষয়গুলো উল্লেখ করা হয়।

কোয়াব বিবৃতিতে জানানো হয়, সব ধরনের খেলা বন্ধ থাকলে জাতীয় দল, অনূর্ধ্ব-১৯ দল এবং চলমান বিপিএলের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। ক্রিকেটের বৃহত্তর স্বার্থ বিবেচনায় আগের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা হয়েছে।

সংগঠনটি আরও জানায়, এম নাজমুল ইসলামকে অর্থ কমিটি থেকে সরিয়ে দেওয়া এবং কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়াকে তারা ইতিবাচক হিসেবে দেখছে। তবে ক্রিকেটারদের প্রতি প্রকাশ্যে অপমানজনক মন্তব্যের জন্য তার প্রকাশ্য ক্ষমা চাওয়াই কোয়াবের প্রত্যাশা।

সংবাদটি শেয়ার করুন