যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের অংশ হিসেবে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসী (ইমিগ্র্যান্ট) ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। আগামী ২১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হতে যাওয়া এই সিদ্ধান্তের ফলে দক্ষিণ এশিয়া, আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য এবং লাতিন আমেরিকার কোটি কোটি মানুষের স্বপ্নের আমেরিকায় স্থায়ী হওয়ার পথ আপাতত রুদ্ধ হতে যাচ্ছে। এই তালিকার উল্লেখযোগ্য দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের পাশাপাশি পাকিস্তান, নেপাল, ইরান ও মিসরের মতো দেশগুলোও রয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মতে, গত নভেম্বর মাসে জারি করা একটি নির্বাহী আদেশের ভিত্তিতেই এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের লক্ষ্য হলো এমন অভিবাসীদের প্রবেশ ঠেকানো, যারা ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য আর্থিক বোঝা হয়ে উঠতে পারেন। বিবৃতিতে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, যারা মার্কিন জনগণের সম্পদ বা সরকারি কল্যাণ সুবিধার ওপর নির্ভরশীল হতে চান, তাঁদের আর দেশটিতে জায়গা দেওয়া হবে না। মূলত মার্কিন অভিবাসন ব্যবস্থার অপব্যবহার রোধ করতেই এই ‘পাবলিক চার্জ’ সংক্রান্ত কঠোর বিধি প্রয়োগ করা হচ্ছে।
নতুন এই স্থগিতাদেশের ফলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নাগরিকেরা ভিসার জন্য আবেদন করতে কিংবা সাক্ষাৎকারে অংশ নিতে পারলেও কোনো চূড়ান্ত ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা গ্রিনকার্ড অনুমোদন করা হবে না। স্থগিতাদেশ ঠিক কবে নাগাদ প্রত্যাহার করা হবে, সে বিষয়েও ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা দেওয়া হয়নি। তবে একটি বিশেষ ছাড় দেওয়া হয়েছে দ্বৈত নাগরিকদের জন্য—যদি কোনো আবেদনকারী এই নিষিদ্ধ তালিকার বাইরে থাকা অন্য কোনো দেশের বৈধ পাসপোর্ট ব্যবহার করেন, তবে তিনি এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়বেন না।
সব ধরনের ভিসার ওপর এই খড়গ নামেনি; বরং এটি শুধুমাত্র স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য যারা আবেদন করেন, সেই অভিবাসী ক্যাটাগরির জন্য প্রযোজ্য। এর ফলে পর্যটক (ট্যুরিস্ট), ব্যবসায়ী (বিজনেস), শিক্ষার্থী (স্টুডেন্ট) এবং অন্যান্য অস্থায়ী বা নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো এই নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকছে। তবে স্থগিতের তালিকায় থাকা ভিসাগুলোর ব্যাপ্তি অনেক বড়—পরিবারভিত্তিক ভিসা (স্বামী/স্ত্রী, সন্তান, ভাই-বোন), বাগদত্তা ভিসা, কর্মসংস্থানভিত্তিক দক্ষ কর্মী ভিসা এবং বহুল আলোচিত ডিভি লটারি বা ডাইভারসিটি ভিসাও এই নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়েছে।
সম্প্রতি মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যে সরকারি সহায়তা কর্মসূচিতে বড় ধরনের জালিয়াতি ফাঁস হওয়ার পর থেকেই স্টেট ডিপার্টমেন্টের অবস্থান আরও কঠোর হয়। এর আগে গত সপ্তাহে বাংলাদেশসহ ৩৮টি দেশের নাগরিকদের জন্য নতুন ‘ভিসা বন্ড’ নিয়ম চালু করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। ফিফা বিশ্বকাপের মাত্র পাঁচ মাস আগে এমন কঠোর নীতি এবং আন্তর্জাতিক অতিথিপরায়ণতা নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও ট্রাম্প প্রশাসন তাঁদের কঠোর অবস্থানে অনড় রয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে হাজার হাজার বাংলাদেশি পরিবার যাঁরা দীর্ঘ সময় ধরে ডিভিডেন্ড বা উপার্জিত অর্থ জমিয়ে আমেরিকায় থিতু হওয়ার স্বপ্ন দেখছিলেন, তাঁরা বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে পড়লেন।




