বিএসইসির বর্তমান কমিশন দায়িত্ব গ্রহণের পর শেয়ারবাজারের আমূল পরিবর্তন ও উন্নয়নের একগুচ্ছ পরিকল্পনা গ্রহণ করলেও প্রকট জনবল সংকটের কারণে তা বাস্তবায়নে গতি পাচ্ছে না। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) বিকেলে এক অনুষ্ঠানে জনবল সংক্রান্ত এই সীমাবদ্ধতার কথা অকপটে স্বীকার করেন। রাজধানীর একটি অনুষ্ঠানে ‘বিএসইসি ক্যাপিটাল মার্কেট জার্নালিজম এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড’ প্রদানকালে সভাপতির বক্তব্যে তিনি প্রতিষ্ঠানের এই অভ্যন্তরীণ সংকটের চিত্র তুলে ধরেন।
কমিশনের বর্তমান কর্মক্ষমতা নিয়ে আলোচনাকালে চেয়ারম্যান উল্লেখ করেন যে, বিএসইসির অনুমোদিত পদের সংখ্যা ৩৭০টি হলেও বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ২৬০ জন। ফলে প্রায় ১১০ জন জনবলের ঘাটতি নিয়ে কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে, যা প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক গতিকে ব্যাহত করছে। সরকারি প্রতিষ্ঠান হওয়ার কারণে অনুমোদিত কাঠামোর বাইরে দ্রুত লোকবল নিয়োগের আইনি সুযোগ না থাকায় এই সংকট নিরসন করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তবে চেয়ারম্যান আশ্বস্ত করেন যে, এত সীমাবদ্ধতার মাঝেও তাঁরা অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থার মাধ্যমে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
জনবল সংকটের কারণে কর্মকর্তাদের কাজের চাপ কতটা বেড়েছে, তার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে রাশেদ মাকসুদ জানান, বর্তমানে অনেক কর্মকর্তাকে নিজ বিভাগের কাজের বাইরেও অতিরিক্ত ৪ থেকে ৭টি তদন্ত কাজের দায়িত্ব সামলাতে হচ্ছে। এই অতিরিক্ত চাপের কারণে বিভিন্ন কমিটির মেয়াদ বারবার বাড়ানো হলেও তদন্তের গুণগত মান নিয়ে কোনো আপস করা হচ্ছে না বলে তিনি দাবি করেন। কর্মকর্তাদের জমা দেওয়া প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করেই নিয়মিতভাবে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি অনুষ্ঠানে জানান।
বিএসইসির প্রশাসনিক কাঠামোতে চাপ বাড়ার আরও একটি কারণ হিসেবে গত ৩০ এপ্রিলের একটি ঘটনা উল্লেখ করা হয়, যেখানে শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে ২১ জন কর্মকর্তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছিল। প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা ও কঠোর শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হলেও তা বর্তমান লোকবল সংকটে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তবে বিএসইসি আশাবাদী যে, আগামী অর্থবছরগুলোতে জনবল সংকট কাটিয়ে উঠতে পারলে বাজার সংস্কারের কাজগুলো আরও দ্রুত ও শক্তিশালীভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।
অনুষ্ঠানে শেয়ারবাজার সাংবাদিকতায় বিশেষ অবদানের জন্য তিনটি ভিন্ন বিভাগে ৯ জন সাংবাদিককে সম্মাননা জানানো হয়। বিএসইসি চেয়ারম্যান বাজারের স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের আস্থা অর্জনে সাংবাদিকদের গঠনমূলক লেখনীর প্রশংসা করেন। তিনি মনে করেন, গণমাধ্যম সঠিক তথ্য তুলে ধরলে বিনিয়োগকারীরা যেমন সচেতন হবেন, তেমনি বাজারে অনিয়ম ও কারসাজি কমে আসবে, যা একটি জবাবদিহিমূলক বাজার ব্যবস্থা গড়তে সহায়ক হবে।




