ঢাকা | বৃহস্পতিবার
২৯শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৫ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

পোস্টাল ব্যালটের সঙ্গে দেশের ভাবমূর্তি জড়িত: ইসি

নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, পোস্টাল ব্যালট নিয়ে কোনো অনিয়ম হলে ছাড় দেওয়া হবে না। তিনি আরও যোগ করেন, পোস্টাল ব্যালটের সঙ্গে দেশের ভাবমূর্তি জড়িত। তাই পোস্টাল ব্যালট নিয়ে অনিয়ম হলে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।

বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় নির্বাচন কমিশন ভবনের এসব কথা বলেন তিনি।

ইসি সানাউল্লাহ বলেন, পোস্টাল ব্যালট নিয়ে কোনো ধরনের অনিয়ম হলে ছাড় দেওয়া হবে না। পোস্টাল ব্যালটের অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের প্রমাণ পেলে দেশে ফিরিয়ে এনে শাস্তি দেওয়া হবে।

দেশে একই ব্যালটে সাধারণ ও পোস্টাল ভোট গ্রহণের দাবি জানিয়েছে বিএনপি। নির্বাচন কমিশনের অবস্থান জানতে চাইলে কমিশনার মো. সানাউল্লাহ বলেন, “এ বিষয়ে আমরা এখনো পর্যবেক্ষণ করছি। আগামীকাল কমিশনের বৈঠকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”

ইসি আরও জানান, প্রবাসী ভোটারদের জন্য প্রথমবারের মতো পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোটগ্রহণের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এই বিষয়ে আজ সকল সংশ্লিষ্ট দূতাবাস ও মিশন প্রধানদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সানাউল্লাহ বলেন, ডাক বিভাগের মাধ্যমে প্রবাসীদের কাছে মোট ৭ লাখ ৬৭ হাজার ৮৪টি ব্যালট পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে ৭ লাখ ৭ হাজার ৫০০টি ব্যালট সফলভাবে গন্তব্যে পৌঁছেছে এবং এখন পর্যন্ত ১ লাখ ৪০ হাজার ৮৭৩ ভোটার কিউআর কোড স্ক্যান করে ভোট গ্রহণ করেছেন। তবে ভুল ঠিকানার কারণে ৪ হাজার ৫২১টি ব্যালট ফেরত এসেছে, যাদের মধ্যে বেশিরভাগ মালয়েশিয়া থেকে এসেছে।

তিনি আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্য ও মালয়েশিয়ায় অনেক প্রবাসী একই ঠিকানায় বসবাস করায় একাধিক ভোটার একই ঠিকানা ব্যবহার করেছেন। কিছু ভিডিওর মাধ্যমে বাল্ক বিতরণের ঘটনা ধরা পড়েছে, তবে এখন পর্যন্ত কোনো ব্যালট জালিয়াতির প্রমাণ পাওয়া যায়নি। উদাহরণ হিসেবে বাহরাইনের একটি ঘটনায় একসাথে ব্যালট বিতরণের ভিডিও পাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করেছেন। বিষয়টি তদন্ত করে ব্যালটগুলো দূতাবাসে ফেরত আনা হয়েছে এবং ব্যক্তিগতভাবে বিতরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এখন থেকে কোনো ব্যালট হস্তান্তর করতে হলে ভোটারের সিপিআর বা জাতীয় পরিচয়পত্র দেখানো বাধ্যতামূলক হবে।

তিনি বলেন, সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মালয়েশিয়াসহ অন্যান্য দেশে এখন পর্যন্ত কোনো অনিয়ম পাওয়া যায়নি। ওমান ও কুয়েতের কিছু ভিডিও যাচাই করা হচ্ছে, তবে তা প্রাথমিকভাবে বাল্ক বিতরণের বাস্তবতার সঙ্গে সম্পর্কিত বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নির্বাচন কমিশনার বলেন, ইলেকটোরাল ইন্টেগ্রিটি রক্ষায় কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। পোস্টাল ব্যালট নিয়ে অনিয়ম করলে সংশ্লিষ্টের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা, জাতীয় পরিচয়পত্র ব্লক এবং প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট দেশ থেকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে লাইভ ভেরিফিকেশন বাধ্যতামূলক করা হতে পারে, লাইভ ভেরিফিকেশন ছাড়া কোনো ভোট গ্রহণ করা হবে না।

দেশের ভেতরে ভোটের ব্যালট এখনও বিতরণ করা হয়নি। ২১ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দ ও চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পর দেশীয় ভোটের ব্যালট ছাপানো ও বিতরণ শুরু হবে। প্রবাসীদের জন্য ‘অ্যাকচুয়াল ব্যালট’ পাঠানোর সিদ্ধান্তও প্রয়োজনে পুনর্বিবেচনা করা হতে পারে।

সানাউল্লাহ শেষ করেন, এটি একটি ঐতিহাসিক উদ্যোগ। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থে যেন এই প্রক্রিয়া ক্ষতিগ্রস্ত না হয় তার জন্য প্রবাসী ভোটারসহ সবার সহযোগিতা কামনা করেছেন তিনি।

সংবাদটি শেয়ার করুন