ঢাকা | শুক্রবার
৩০শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৬ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

পোস্টাল ব্যালটে অনিয়ম ও নির্দিষ্ট দলের পক্ষপাত দেখা দিয়েছে : সালাহউদ্দিন

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, প্রবাসীদের ভোটাধিকার প্রয়োগে প্রথমবার চালু হওয়া পোস্টাল ব্যালট প্রণয়ন, প্রেরণ ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে, যা নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

তিনি মনে করেন, কিছু ভুলভ্রান্তি হতে পারে, তবে যে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে তাতে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের পক্ষে কাজ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে ইসির সচিবের সঙ্গে বৈঠকের পরে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা জানান।

সালাহউদ্দিন বলেন, বৈঠকে নির্বাচন সংক্রান্ত আইনগত বিষয় ও আচরণবিধি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিও ও ছবিতে দেখা গেছে, কোনো কোনো বাসায় ২০০ থেকে ৩০০টি ব্যালট পৌঁছেছে, কোথাও ব্যালট জব্দ করা হয়েছে, আবার কোথাও ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে।

এছাড়া একজনের নামে পাঠানো ব্যালট অন্য কেউ গ্রহণ করছে এমন ঘটনা ও সামনে এসেছে।

তিনি আরও বলেন, প্রবাসীদের কাছে ব্যালট কিভাবে পাঠানো হয়েছে, তারা কিভাবে ভোট দেবেন, কোথায় স্ক্যান করবেন এবং যদি এক জায়গায় বিপুলসংখ্যক ব্যালট পাওয়া যায় তার দায় কার—এসব বিষয়ে নির্বাচন কমিশন ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে পরিষ্কার ব্যাখ্যা দিতে হবে। কমিশন ইতিমধ্যেই বিষয়গুলো বিবেচনা করছে এবং প্রয়োজনে আজই ব্যাখ্যা দিতে পারে।

আচরণবিধি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভোটার অংশগ্রহণ বাড়াতে ভোটার স্লিপে ভোটারের নম্বর, প্রার্থীর নাম ও প্রতীক থাকা উচিত।

বর্তমানে আচরণবিধিতে ভোটার স্লিপে কোনো দলের নাম বা প্রার্থীর ছবি রাখার অনুমতি নেই, যা পুনর্বিবেচনার প্রয়োজন রয়েছে। তবে ভোটার স্লিপ দেওয়ার অর্থ ভোটে প্রভাবিত করা নয়; ভোটার নিজেই সিদ্ধান্ত নেবেন।

তিনি উল্লেখ করেন, আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে আগে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের একটি সফর স্থগিত করা হয়েছিল, যা রাজনৈতিক প্রচার ছিল না। কিন্তু বর্তমানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ থাকলেও কমিশনের নীরবতা নজরে এসেছে।

সালাহউদ্দিন আরও জানান, পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থায় একটি সুস্পষ্ট প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। সেই অনুযায়ী, সাধারণ ব্যালট যেভাবে নির্বাচনী এলাকায় ব্যবহার হয়, সেটি সংশ্লিষ্ট এলাকার পোস্টাল ব্যালট হিসেবেও ব্যবহার করা উচিত। এতে আলাদা প্রতীকসংবলিত ব্যালট ছাপানোর প্রয়োজন কমবে এবং জটিলতাও হ্রাস পাবে। নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যেই বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করার আশ্বাস দিয়েছে।

বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, নির্বাচন কমিশনের সাবেক সচিব ড. মোহাম্মদ জকরিয়া এবং বিএনপির আইন সহায়তা উপকমিটির প্রধান ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল।

সংবাদটি শেয়ার করুন