বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক এম নাজমুল ইসলামের বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে দেশের ক্রিকেটে চরম অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। তার পদত্যাগের দাবিতে ক্রিকেটারদের সংগঠন কোয়াব (সিওএবি) আলটিমেটাম দিয়েও এখন পর্যন্ত কোনো ঘোষণা না আসায় ক্রিকেটাররা কঠোর অবস্থানে রয়েছেন।
বৃহস্পতিবার বিপিএলের প্রথম ম্যাচের সময় পার হলেও কোনো দল মাঠে না নামায় খেলা শুরু হওয়া নিয়ে গভীর শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিপিএলের ছয়টি দলের ক্রিকেটার রাজধানীর হোটেল শেরাটনে জড়ো হয়েছেন এবং দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত সব ধরনের ক্রিকেট বয়কটের হুমকি দিয়েছেন। কোয়াব আজ দুপুর ১টায় সেখানে একটি জরুরি সংবাদ সম্মেলন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সংকটের সূত্রপাত ঘটে গতকাল, যখন এম নাজমুল ইসলাম বিশ্বকাপে না খেললে ক্রিকেটারদের ক্ষতিপূরণের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে বলেন, ‘বিসিবির কোনো ক্ষতি হবে না, বরং ক্রিকেটারদেরই ক্ষতি হবে। কারণ তারা খেললেই কেবল ম্যাচ ফি ও বোনাস পান।’ তার বক্তব্যে আরও যোগ করা হয়েছিল যে, ক্রিকেটাররা ভালো না করলে বোর্ড বেতন কাটে না এবং কোটি কোটি টাকা ফেরত চাইতে হয় না।
ক্রিকেটাররা এই মন্তব্যকে ‘অপমানজনক’ ও ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। প্রতিবাদ জানিয়ে কোয়াবের সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুন জরুরি জুম মিটিংয়ে মন্তব্য করেছিলেন, একজন বোর্ড পরিচালক এমন ভাষায় কথা বলতে পারেন না। কোয়াব পরিষ্কার জানিয়েছিল, নাজমুল পদত্যাগ না করলে বিপিএলের ম্যাচ শুরুর আগেই ক্রিকেটাররা মাঠে নামবেন না।
নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও কোনো সমাধান না আসায় ক্রিকেটাররা হোটেল শেরাটনে সমবেত হন। এই একতাবদ্ধ অবস্থান বিপিএলের মতো বড় আসরকে অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে। বর্তমানে হোটেল শেরাটনে উত্তেজনা বিরাজ করছে, এবং ক্রিকেটাররা তাদের সম্মান ও দাবির বিষয়ে অনড় রয়েছেন। বোর্ড ও ক্রিকেটারদের মধ্যে স্নায়ুযুদ্ধ নিরসনে এখনও বিসিবির শীর্ষ পর্যায়ের কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি। আগামী দিনে কোয়াব কী ধরনের কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করবে, সেই দিকে নজর রয়েছে ক্রিকেটপ্রেমীদের। অস্থিরতা নিরসন না হলে কেবল বিপিএল নয়, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেও বাংলাদেশের অংশগ্রহণ ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে।




