ঢাকা | শুক্রবার
৩০শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৬ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ফেনীতে মাসুম হত্যা: ১৭০ জন পলাতকের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

ফেনীর মহিপালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে কলেজ শিক্ষার্থী মাহবুবুল হাসান মাসুম (২৫) হত্যা মামলায় আদালত অভিযোগপত্র (চার্জশিট) গ্রহণ করেছেন। এতে পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, ফেনী-২ ও ফেনী-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্যদেরসহ পলাতক ১৭০ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) ফেনী আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ হাসান এ আদেশ দেন।

সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট মহিপালে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় মাসুম মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন। পরে তিনি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৭ আগস্ট মৃত্যু বরণ করেন। নিহতের ভাই মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান ৪ সেপ্টেম্বর ফেনী মডেল থানায় ১৬২ জনের নাম উল্লেখ ও আরও ৪০০-৫০০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও ফেনী মডেল থানা পুলিশের উপপরিদর্শক আলমগীর হোসেন জানান, এ মামলায় ১২ জন এজাহারনামীয় ও ৩৯ জন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। মুরাদ হাসান বাবুসহ তিন আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

মামলায় মোট ২২১ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে, যার মধ্যে ১৫৬ জন এজাহারনামীয় ও ৬৫ জন অজ্ঞাত।

বাদীপক্ষের আইনজীবী মেজবাহ উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, ১৭০ পলাতক আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। তাদের মধ্যে চারজন অপ্রাপ্তবয়স্ক, যারা শিশু আদালতে বিচার পাবেন। ফেনী জেলা ও দায়রা জজ আদালতের এপিপি জহির উদ্দিন মামুন জানিয়েছেন, মামলার পরবর্তী শুনানি ২২ জানুয়ারি ধার্য করা হয়েছে।

মামলায় উল্লেখযোগ্য পলাতক আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শুসেন চন্দ্র শীল, পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম স্বপন, ছাগলনাইয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মেজবাউল হায়দার চৌধুরী সোহেল, দাগনভুঞা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান দিদারুল কবির রতন, পরশুরাম উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক মেয়র নিজাম উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী সাজেল ও যুবলীগ নেতা সাইফুল ইসলাম পিটু প্রমুখ।

নিহত মাহবুবুল হাসান মাসুম সোনাগাজী উপজেলার চরচান্দিয়া ইউনিয়নের তরাব পাটোয়ারী বাড়ির মৃত মাওলানা নোমান হাসানের ছেলে। তিনি ছাগলনাইয়া আব্দুল হক চৌধুরী ডিগ্রি কলেজ থেকে বাংলায় স্নাতক শেষ করেন। বাদী তাঁর ভাই জানিয়েছেন, হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চান এবং দ্রুত বিচার দাবি করেছেন।

ফেনীতে ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট সংঘটিত সহিংসতার ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২৪টি মামলা হয়েছে, যার মধ্যে ৭টি হত্যা ও ১৭টি হত্যাচেষ্টা ও সহিংসতার অভিযোগে দায়ের করা হয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন