ঢাকা | বুধবার
২৮শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৪ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জামাই মেলায় মাছের লড়াই

পৌষ-সংক্রান্তির শেষ দিনে গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার বিনিরাইলে আবারও বসেছে ঐতিহ্যবাহী জামাই মেলা, যা স্থানীয়দের মধ্যে মাছের মেলা হিসেবেও পরিচিত। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সরেজমিনে দেখা গেছে, মেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে দিগন্তজোড়া ফসলের মাঠের মাঝখানে। সকাল থেকেই শুরু হওয়া মেলা দুপুরের দিকে সর্বাধিক জমে ওঠে। এ সময় আশপাশের গ্রামের জামাইরা শ্বশুরবাড়িতে এসে মেলায় অংশ নিয়ে মাছ কিনে প্রতিযোগিতা করেন।

মেলায় দেশজুড়ে বিভিন্ন বিক্রেতা সরাসরি বড় বড় রুই, কাতলা, বোয়াল, চিতল ও সামুদ্রিক অন্তত ৩০ প্রজাতির মাছ নিয়ে আসেন। মাছ ছাড়াও খাবার, মিষ্টি, খেলনা, মনিহারি, আসবাবপত্র ও হস্তশিল্পের বিভিন্ন পসরা সাজিয়ে বিক্রেতারা অংশ নেন। মাছ বিক্রেতা নজরুল জানান, মেলায় মূলত দর্শনার্থীর ভিড় বেশি থাকে, বিক্রিও হয় তবে লাভের চেয়ে আনন্দের জন্যই তারা এখানে অংশ নেন।

মাছ কিনতে আসা জামাই ইকবাল চৌধুরী বলেন, বছরের ব্যস্ততা কাটিয়ে এই দিনে শ্বশুরবাড়ি আসা এবং মেলায় অংশ নেওয়াই মূল আকর্ষণ।

শ্বশুরের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে মাছ কেনা, বিভিন্ন খাবার ও মিষ্টি খেয়ে মেলায় মজা করা তাদের প্রধান উদ্দেশ্য। স্থানীয়রা বলেন, মেলার আসল লক্ষ্য হলো পারস্পরিক ভালো সম্পর্ক তৈরি ও আনন্দ উদযাপন, বেচাকেনা নয়।

আয়োজক কমিটি জানায়, মেলাটি শুরুতে খুবই ছোট পরিসরে অনুষ্ঠিত হতো।

এটি অগ্রহায়ণের ধান কাটা শেষে পৌষ-সংক্রান্তি ও নবান্ন উৎসবের সঙ্গে মিলিত হতো। প্রায় আড়াইশ বছরের ইতিহাসে মেলাটি এখন একটি সার্বজনীন উৎসবে পরিণত হয়েছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মাছের পাশাপাশি বস্ত্র, হস্তশিল্প, প্রসাধনী, ফার্নিচার, খেলনা ও কুটির শিল্পের স্টলও মেলাটিকে প্রাণবন্ত করেছে। বিনিরাইল ও পার্শ্ববর্তী গ্রামগুলোতে মেলার আমেজ পুরো এলাকাকে উৎসবমুখর করে তোলে, যেখানে মেয়েদের জামাইকে দাওয়াত করে আনা একটি রীতিতে পরিণত হয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন