বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা থাকলেও কিছু ঝুঁকিও রয়েছে। মূল ঝুঁকির মধ্যে উল্লেখযোগ্য— বর্তমানে দেশটিতে মূল্যস্ফীতি লক্ষ্যমানের চেয়ে বেশি থাকা, যা নিয়ন্ত্রণে কঠোর মুদ্রানীতি গ্রহণের ফলে ঋণের প্রবাহ কমে গেছে এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্প্রসারণে বাধা সৃষ্টি করছে।
এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্ক আরোপ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। তবে প্রতিবেদন বলছে, সরকারি খরচ বৃদ্ধির পাশাপাশি বিনিয়োগ বাড়ালে এই চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলা সম্ভব।
প্রতিবেদনে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাসও তুলে ধরা হয়েছে। চলতি অর্থবছরে ভুটানে প্রবৃদ্ধি হবে সর্বাধিক ৭.৩ শতাংশ, ভারতে ৬.৫ শতাংশ, বাংলাদেশে ৪.৬ শতাংশ, মালদ্বীপে ৩.৯ শতাংশ, শ্রীলঙ্কায় ৩.৫ শতাংশ এবং নেপালে ২.১ শতাংশ। পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের জন্য পূর্বাভাস প্রকাশ করা হয়নি।
অন্যদিকে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই–সেপ্টেম্বর) জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৪.৫ শতাংশ হিসেবে প্রকাশ করেছে। এর তুলনায় ২০২৪-২৫ অর্থবছরের একই সময়ে প্রবৃদ্ধি ছিল মাত্র ২.৫৮ শতাংশ।
বিশ্বব্যাংক আরও জানিয়েছে, ২০২৬ সালে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি কিছুটা কমে ২.৬ শতাংশ হতে পারে এবং ২০২৭ সালে তা ২.৭ শতাংশে পৌঁছাবে। একই সময়ে বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতি কমে ২.৬ শতাংশে নেমে আসতে পারে। আগামী এক দশকে প্রায় ১২০ কোটি তরুণ কর্মক্ষম বয়সে প্রবেশ করবে। তাদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, ডিজিটাল ও মানব পুঁজি শক্তিশালী করা এবং বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেছে সংস্থাটি।




