বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলের পূর্বঘোষিত সংবাদ সম্মেলন অনিবার্য কারণে স্থগিত করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৪ জানুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৪টায় এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
সূত্র জানায়, সংবাদ সম্মেলন স্থগিতের অনুরোধ করেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির সৈয়দ রেজাউল করিম (চরমোনাই পীর)। এছাড়াও তিনি জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চেয়েছেন। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, অনিবার্য কারণের কারণে নির্ধারিত সময়ে সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করা সম্ভব হচ্ছে না এবং নতুন সময়সূচি পরবর্তীতে জানানো হবে।
এই জোটে জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ (আইএবি), জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি), বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি, লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (এলডিপি), জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি (বিডিপি) রয়েছে।
গণঅভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের কিছুদিনে জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনসহ আটটি দল আসন সমঝোতার ভিত্তিতে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। পরে এনসিপি, এলডিপি ও এবি পার্টি যুক্ত হলে জোটের আসন সমঝোতা জটিল হয়ে ওঠে। বিশেষ করে ইসলামী আন্দোলন শুরু থেকেই শতাধিক আসনে প্রার্থী দেওয়ার দাবি জানায়, যা জোটে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করে।
২৯ ডিসেম্বর মনোনয়ন দাখিলের শেষ দিনে চূড়ান্ত সমঝোতা না হওয়ায় জামায়াত ২৭৬টি আসনে প্রার্থী দেয়। একই দিনে ইসলামী আন্দোলন ২৬৮টি, এনসিপি ৪৪টি, এবি পার্টি ৫৩টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ৯৪টি এবং খেলাফত মজলিস ৬৮টি আসনে প্রার্থী দেয়। ফলে জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের মধ্যে দ্বন্দ্ব তীব্র আকার ধারণ করে এবং অন্তত ২৪০টি আসনে দুই দলের প্রার্থীরা মুখোমুখি অবস্থানে থাকে।
নতুন দল যুক্ত হওয়ার পর সন্দেহ ও অবিশ্বাস প্রকাশ করেন ইসলামী আন্দোলন ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের শীর্ষ নেতারা। তাদের অভিযোগ, জামায়াত একতরফাভাবে নতুন দলগুলোকে জোটে যুক্ত করেছে। ইসলামী আন্দোলন শুরু থেকে শতাধিক আসনে নির্বাচন করতে চেয়েছিল, তবে আলোচনার ভিত্তিতে ধাপে ধাপে আসনের চাহিদা কমিয়েছে। সর্বশেষ তাদের দাবি ছিল ৫০টির বেশি আসন, কিন্তু জামায়াত দলটিকে মাত্র ৪০টি আসন দিতে চায়, যা দলের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি করেছে।




