ঢাকা | বৃহস্পতিবার
২৯শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৫ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

‘হ্যাঁ’ গণভোটের পক্ষে কর্মসূচি ঘোষণা ডাকসুর

আসন্ন জাতীয় গণভোটকে সামনে রেখে গণতন্ত্র, জনগণের মতামতের মর্যাদা এবং রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে জনসম্পৃক্ততা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে দেশব্যাপী সচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)।

বুধবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে ডাকসু জানায়, জুলাই বিপ্লবের মূল দাবি ছিল বিদ্যমান রাষ্ট্রীয় কাঠামোর মৌলিক সংস্কার। সেই সংস্কার বাস্তবায়নের ঐতিহাসিক পথ হিসেবেই এই গণভোট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। তাদের মতে, এই গণভোটে অংশগ্রহণ এবং ‘হ্যাঁ’ ভোট প্রদান করা জুলাই শহীদদের রক্তের পবিত্র আমানত রক্ষার একটি ঐতিহাসিক দায়িত্ব।

ডাকসুর বক্তব্য অনুযায়ী, দীর্ঘ ফ্যাসিবাদী শাসনামলে জনগণ রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া থেকে কার্যত বঞ্চিত ছিল। গণভোট সেই ফ্যাসিবাদী কাঠামো ভেঙে জনগণের ক্ষমতা জনগণের হাতেই ফিরিয়ে দেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার যে স্বপ্ন নিয়ে জুলাই শহীদরা জীবন উৎসর্গ করেছিলেন, এই গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথ আরও সুগম হবে বলে তারা মনে করে।

ডাকসু দাবি করে, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বিজয়ী হলে চিরতরে ফ্যাসিবাদী কাঠামোর অবসান ঘটবে, যাতে ভবিষ্যতে পিলখানা, শাপলা, আল্লামা সাঈদীর রায়ের প্রতিবাদী বিক্ষোভ কিংবা জুলাইয়ের মতো গণহত্যার পুনরাবৃত্তি না ঘটে। একই সঙ্গে শিক্ষাঙ্গনে শহীদ নোমানী, আবু বকর, বিশ্বজিৎ, আবরার ফাহাদ, শহীদ শরিফ ও ওসমান হাদি-সহ সকল নাগরিকের ন্যায়বিচার নিশ্চিত হওয়ার পথ তৈরি হবে। গুম, খুন এবং ‘আয়নাঘর’-এর মতো মানবাধিকার লঙ্ঘনের অবসান ঘটবে বলেও আশা প্রকাশ করে সংগঠনটি।

ডাকসুর ভাষ্য অনুযায়ী, ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে জুলাই সনদ কার্যকর হবে, রাষ্ট্রক্ষমতায় ভারসাম্য প্রতিষ্ঠিত হবে, একজন ব্যক্তি দুইবারের বেশি প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন না, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানসমূহ স্বাধীন ও শক্তিশালী হবে এবং চাকরিতে নিয়োগে স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে। পাশাপাশি সংবিধানের গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনে জনগণের অংশগ্রহণ, সমাজের সর্বস্তরে নারীদের প্রতিনিধিত্ব, সকল ধর্ম, বর্ণ ও মতাদর্শের মানুষের ন্যায্য অধিকার সুরক্ষা এবং ইন্টারনেটকে মৌলিক অধিকারের অন্তর্ভুক্ত করার পথ সুগম হবে। এর মাধ্যমে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ কোন পথে পরিচালিত হবে, তার রূপরেখা নির্ধারিত হবে বলে মনে করে ডাকসু।

ডাকসু জানায়, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়া কেবল একটি নাগরিক কর্তব্য নয়; এটি শহীদদের রেখে যাওয়া রক্তের আমানতের হেফাজত। বিশেষ করে তরুণ সমাজ ও শিক্ষার্থীদের ঐক্যবদ্ধ অংশগ্রহণ ছাড়া দেশকে ফ্যাসিবাদী কাঠামো থেকে মুক্ত করা সম্ভব নয় বলেও তারা মনে করে।

ডাকসুর মাসব্যাপী কর্মসূচি

গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে জনমত গঠন ও সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ডাকসু মাসব্যাপী যে কর্মসূচি গ্রহণ করেছে, তার মধ্যে রয়েছে—

১. দেশজুড়ে সরাসরি জনসংযোগ কার্যক্রম
২. সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ই-পোস্টার, ভিডিও, রিলস ও লেখালেখি
৩. প্রদর্শনী বিতর্ক ও সেমিনার আয়োজন
৪. সুশীল সমাজ, রাজনৈতিক দল, সাংবাদিক, অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ও সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে মতবিনিময় সভা
৫. ‘জুলাই আহতদের ভাবনা’ শীর্ষক আলোচনা সভা
৬. গান, কবিতা ও ডকুমেন্টারি প্রকাশ
৭. বক্তৃতা প্রতিযোগিতা, পথনাটক ও মাইম প্রদর্শনী
৮. সারাদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহে সফর ও শিক্ষার্থীদের ঐক্যবদ্ধ করা

ডাকসুর পক্ষ থেকে জামায়াতে ইসলামী, বিএনপি, এনসিপি-সহ সকল ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক দল, ছাত্রসংগঠন, পেশাজীবী সংগঠন, সুশীল সমাজ এবং সাধারণ মানুষের প্রতি গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে দেশব্যাপী গণজোয়ার সৃষ্টির আহ্বান জানানো হয়েছে।

ডাকসু জানায়, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ তে সিল দেওয়ার মাধ্যমেই একটি নিরাপদ, গণতান্ত্রিক ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশের পথ নিশ্চিত হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন