ঢাকা | বৃহস্পতিবার
২৯শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৫ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

স্বর্ণের দামে সর্বকালের রেকর্ড

যুক্তরাষ্ট্র, ভেনেজুয়েলা ও ইরানকে ঘিরে বাড়তে থাকা উত্তেজনা এবং সামগ্রিক বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার কারণে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিশ্ববাজারে স্বর্ণ ও রুপার চাহিদা বেড়েছে। আজ মঙ্গলবার বিশ্ববাজারে ইতিহাসের সর্বোচ্চ দামে স্বর্ণের লেনদেন হয়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারের পাশাপাশি স্থানীয় বাজারেও স্বর্ণ ও রুপার দাম  বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক বাজারে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো স্বর্ণের দাম বেড়ে আউন্স প্রতি ৪৬০০ ডলারে লেনদেন হয়। ফলে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের সর্বকালের সর্বোচ্চ দামের রেকর্ড হলো।

মঙ্গলবার দুপুরে প্রতি আউন্স স্পট স্বর্ণের লেনদেন হয় ৪,৬০১.৬৩ ডলারে। মূল্য বৃদ্ধির হার ০.২ শতাংশ। আগের সেশনে স্বর্ণের দাম সর্বকালের রেকর্ড ৪,৬২৯.৯৪ ডলার স্পর্শ করেছিল। ফেব্রুয়ারি ডেলিভারির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের স্বর্ণ ফিউচারস ০.১ শতাংশ কমে ৪,৬১০.৩০ ডলারে নেমে আসে।

অ্যাকটিভট্রেডসের বিশ্লেষক রিকার্ডো ইভানজেলিস্তা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের এক শীর্ষ কর্মকর্তার কড়া মন্তব্যের পর ডলারের সামান্য ঘুরে দাঁড়ানো এবং পরে প্রকাশিত হতে যাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তা মূল্যসূচক (সিপিআই) তথ্যের দিকে বিনিয়োগকারীদের নজর এই দুই বিষয় স্বর্ণের দামের ওপর চাপ তৈরি করছে।

নিউইয়র্ক ফেডের প্রেসিডেন্ট জন উইলিয়ামস সোমবার বলেন, মুদ্রানীতির অবস্থান পরিবর্তনে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওপর নিকট ভবিষ্যতে তেমন কোনো চাপ নেই। তবে বাজারে চলতি বছরে দুই দফা সুদহার কমানোর প্রত্যাশা রয়েছে। আজকের সিপিআই তথ্য ভবিষ্যৎ মুদ্রানীতির ইঙ্গিত দিতে পারে বলে মনে করছেন বিনিয়োগকারীরা।

রিকার্ডো ইভানজেলিস্তা আরও বলেন, ‘স্বর্ণের দাম ৪,৫০০ ডলারের ওপরে স্থিতিশীল রয়েছে। ডলারের দুর্বল প্রবণতা ও চলমান ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে ৫,০০০ ডলারের স্তর ক্রমেই নাগালের মধ্যে আসছে এবং বছরের প্রথমার্ধেই তা পরীক্ষা হতে পারে।’

বিশ্লেষকরা বলছেন বাজারে সুদের হার কম থাকলে এবং ভূরাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক ঝুঁকি বাড়লে সুদবিহীন সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের চাহিদা বাড়ে।

মূল্যবান ধাতুর লেনদেনে পর্যাপ্ত জামানত নিশ্চিত করতে মার্জিন নির্ধারণের পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এক্সচেঞ্জ অপারেটর সিএমই গ্রুপ। বাজারের অস্থিরতা বিবেচনায় মার্জিন নির্ধারণ পদ্ধতিতে পরিবর্তন করার কথা ভাবছে তারা।

স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুও দাম বেড়েছে । স্পট রুপার দাম ২.৩ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৮৬.৯৪ ডলার হয়েছে, যা এর আগের রেকর্ড ৮৭.১৬ ডলারের কাছাকাছি। ০.৪ শতাংশ বেড়ে স্পট প্লাটিনাম দাঁড়িয়েছে ২,৩৫২.৮৯ ডলারে। এর আগে ২৯ ডিসেম্বর ২,৪৭৮.৫০ ডলারের রেকর্ড স্পর্শ করেছিল এটি। প্রতি আউন্সে ০.৩ শতাংশ বেড়ে প্যালাডিয়ামের লেনদেন হয়েছে ১,৮৪৭.২৫ ডলারে।

সংবাদটি শেয়ার করুন