ইরানে অর্থনৈতিক সংকটের তীব্র ক্ষোভ থেকে শুরু হওয়া সরকারবিরোধী বিক্ষোভ এবং প্রতিবাদ গত কয়েক সপ্তাহ ধরে চলছেই।
দেশটির সরকারি এক কর্মকর্তা মঙ্গলবার ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, এই আন্দোলনের সময় অন্তত দুই হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। নিহতের মধ্যে রয়েছে সাধারণ বেসামরিক নাগরিক, পাশাপাশি নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরাও।
সরকারি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, বিক্ষোভকারীরা মূলত খাদ্য ও জীবনের মৌলিক চাহিদা, মূল্যস্ফীতি, বেকারত্ব ও রাজনৈতিক অস্বস্তির বিরুদ্ধে রাস্তায় নামে। প্রথমদিকে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে সীমাবদ্ধ থাকলেও পরে তা সহিংস রূপ নেয় এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে রূপ নেয়। কর্মকর্তা জানান, এই সংঘর্ষ এবং হত্যাকাণ্ডের পেছনে ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ দায়ী।
ইরান সরকারের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, নিহতদের মধ্যে অসংখ্য ব্যক্তি ছুটিপত্র এবং চাকরি সংক্রান্ত অর্থনৈতিক সমস্যার কারণে প্রতিরোধমূলক আন্দোলনে অংশগ্রহণ করছিল। এছাড়া দেশের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভের সময় সরকারি ভবন, ব্যাঙ্ক ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।
বিক্ষোভের সূত্রপাত মূলত সরকারের কঠোর অর্থনৈতিক নীতি, রেশনিং এবং দারিদ্র্য হ্রাসের ব্যর্থতার কারণে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা সতর্ক করেছেন, ইরানের এই আন্দোলন যদি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যায়, তবে এটি দেশজুড়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিতিশীলতার সৃষ্টি করতে পারে।
সরকারি কর্মকর্তা আরও জানিয়েছেন, সরকার এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় নিরাপত্তা বাহিনীকে নিয়ন্ত্রণ জোরদার করতে নির্দেশ দিয়েছে, তবে বেসামরিক প্রাণহানির সংখ্যা রোধ করা কঠিন হচ্ছে। এদিকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ও অন্যান্য পর্যবেক্ষকরা ইরানের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে।
অর্থনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতা, মূল্যস্ফীতি, বেকারত্ব ও রাজনৈতিক সীমাবদ্ধতার কারণে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ প্রাণহানির ঘটনা পর্যন্ত চলে গেছে এবং পরিস্থিতি এখনও শান্ত হয়নি।




