ঢাকা | বৃহস্পতিবার
২৯শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৫ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মহার্ঘ ভাতা প্রকাশ: সরকারি কর্মচারীরা কত পাবেন?

দীর্ঘদিন ধরে সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন পে স্কেল নিয়ে আলোচনা চললেও শেষ পর্যন্ত পে স্কেল ঘোষণার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে অন্তর্বর্তী সরকার। ফলে নতুন বেতন কাঠামো নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হলেও, পে স্কেল কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত বিদ্যমান বিধি অনুযায়ী সরকারি কর্মচারীরা মহার্ঘ ভাতা পেতে থাকবেন বলে স্পষ্ট করেছে সরকার। নতুন কাঠামো ঘোষণার আগ পর্যন্ত এই ব্যবস্থাই বহাল থাকবে।

আর্থিক সংকট এবং আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন-পূর্ব সময়ে নতুন পে স্কেল ঘোষণা করা সম্ভব নয় বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। তবে এ উদ্দেশ্যে গঠিত জাতীয় পে কমিশনের কার্যক্রম বন্ধ করা হয়নি। কমিশনকে কাজ চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে একটি পূর্ণাঙ্গ বেতন কাঠামোর ফ্রেমওয়ার্ক প্রস্তুত করা যায়। কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদন অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে জমা দেওয়া হবে এবং তা নির্বাচনের পর নতুন নির্বাচিত সরকারের হাতে হস্তান্তর করা হবে।

সরকারি সূত্র জানিয়েছে, সময়ের স্বল্পতা এবং ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতির কারণে নির্বাচন-পূর্ব সময়ে নতুন পে স্কেল ঘোষণার কোনো সম্ভাবনা নেই। ফলে নতুন কাঠামো বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী মহার্ঘ ভাতা পেতে থাকবেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর সম্প্রতি গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের আগে নতুন পে স্কেল ঘোষণার প্রশ্নই ওঠে না। তার মতে, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না নেওয়াই বাস্তবসম্মত ও যুক্তিযুক্ত।

অন্যদিকে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, পে কমিশনকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তাদের প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতেই ভবিষ্যতে নতুন সরকার প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবে।

২০২৫ সালে মহার্ঘ ভাতা নিয়ে সরকারি পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনা হয়। সে সময় ২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে মহার্ঘ ভাতা ঘোষণার বিষয়টি গুরুত্ব পায়। আলোচনায় প্রথম থেকে নবম গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ১৫ শতাংশ এবং দশম থেকে ২০ গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য ২০ শতাংশ হারে মহার্ঘ ভাতা দেওয়ার প্রস্তাব ওঠে। তবে শেষ পর্যন্ত মহার্ঘ ভাতার পরিবর্তে নতুন পে স্কেলের দিকেই অগ্রসর হওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার, যদিও তা এখন স্থগিত রয়েছে।

সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নতুন পে স্কেল বা বেতন কাঠামো ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত সরকারি চাকরিজীবীরা বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী মহার্ঘ ভাতা পেতে থাকবেন। সে হিসেবে প্রথম থেকে নবম গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ১৫ শতাংশ এবং দশম থেকে ২০ গ্রেডের কর্মচারীরা ২০ শতাংশ হারে মহার্ঘ ভাতা পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বর্তমানে সরকারি কর্মচারীরা অষ্টম জাতীয় বেতনকাঠামো অনুযায়ী বেতন-ভাতা পাচ্ছেন, যা ২০১৫ সালের ১ জুলাই কার্যকর হয়েছিল। এর আগে ২০০৯ সালের ১ জুলাই সপ্তম বেতনকাঠামো ঘোষণা করা হয়। সাধারণত সরকার পাঁচ বছর পরপর নতুন বেতনকাঠামো ঘোষণা করে থাকলেও, অষ্টম বেতনকাঠামোর পর নয় বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও নতুন কাঠামো কার্যকর হয়নি। ফলে অনেক কর্মচারীর বেতন গ্রেডের শেষ ধাপে পৌঁছে গেছে।

এ পরিস্থিতি এবং মূল্যস্ফীতি বিবেচনায় ২০২৩ সালের ১ জুলাই থেকে সরকারি কর্মচারীদের ৫ শতাংশ হারে প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ২৭ জুলাই সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করা হয়। কমিশনের মেয়াদ চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির মধ্যেই শেষ হওয়ার কথা, যা জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঠিক আগেই প্রায় সমাপ্ত হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন