ঢাকা | বৃহস্পতিবার
২৯শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৫ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মার্কিন নাগরিকদের ইরান ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

নিজ নাগরিকদের ইরান থেকে বেরিয়ে আসার নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্রমাগত যখন ইরানি সরকারের ওপর হামলার হুমকি দিচ্ছেন এমন সময়ে এই বিষয়টি সামনে এল।

যুক্তরাষ্ট্র ইরানের জন্য পরিচালিত ‘ভার্চুয়াল অ্যাম্বাসি’ ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক সতর্কবার্তায় বলেছে , ‘এখনই ইরান ত্যাগ করুন। যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সহায়তার ওপর নির্ভর না করে ইরান ছাড়ার জন্য নিজস্ব পরিকল্পনা রাখুন।’ এমন খবর প্রকাশ করেছে কানাডার সংবাদমাধ্যম সিবিসি নিউজ। যেসব মার্কিন নাগরিক ইরান ছাড়তে পারছেন না, তাদের ‘নিরাপদ স্থানে অবস্থান’ করার, খাদ্য ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী মজুত রাখার এবং আশপাশের পরিস্থিতি সম্পর্কে সচেতন থাকার জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে সোমবার গভীর রাতে ট্রাম্প ঘোষণা দেন, ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করা যেকোনো দেশকে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানির ওপর ২৫ শতাংশ নতুন শুল্কের মুখোমুখি হতে হবে। যদিও প্রেসিডেন্ট এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন ইরান ইতিমধ্যে ব্যাপক মার্কিন ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞার আওতায় আছে এবং একটি বড় তেল উৎপাদক দেশ হওয়ায় এই পদক্ষেপের্ বাস্তবের চেয়ে প্রতীকী প্রভাবই বেশি।

এ বিষয়ে হোয়াইট হাউস বা নিউইয়র্কে জাতিসংঘে ইরানের মিশন কোনো পক্ষই মন্তব্য করেনি।

রোববার ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করতে পারে এবং তিনি ইরানের বিরোধীদের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখছেন। ইরানি নিরাপত্তা বাহিনী যদি বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালায়, তবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালাবে। সূত্রমতে, তিনি বিভিন্ন সম্ভাব্য পদক্ষেপ পর্যালোচনা করছেন।

হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট সোমবার গণমাধ্যকে বলেন, ট্রাম্পের সামনে থাকা বহু বিকল্পের মধ্যে বিমান হামলা একটি হলেও ‘প্রেসিডেন্টের জন্য কূটনীতি সব সময়ই প্রথম বিকল্প।’ তিনি বলেন, ‘ইরানি শাসনব্যবস্থা প্রকাশ্যে যা বলছে, প্রশাসন ব্যক্তিগতভাবে যে বার্তা পাচ্ছে তা তার থেকে একেবারেই ভিন্ন এবং প্রেসিডেন্ট সেই বার্তাগুলো খতিয়ে দেখার আগ্রহ রাখেন।’

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, তেহরান ওয়াশিংটনের প্রস্তাবিত ধারণাগুলো পর্যালোচনা করছে, যদিও সেগুলো ‘যুক্তরাষ্ট্রের হুমকির সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ।’ সোমবার তিনি বলেন পরিস্থিতি ‘সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে’ রয়েছে। বিক্ষোভ শুরুর পর থেকে ৫৩টি মসজিদ ও ১৮০টি অ্যাম্বুলেন্সে আগুন দেওয়া হয়েছে। বিক্ষোভের ব্যাপকতা সত্ত্বেও শিয়া ধর্মীয় নেতৃত্ব, সামরিক বাহিনী বা নিরাপত্তা বাহিনীতে বিভক্তির কোনো লক্ষণ নেই। বিক্ষোভকারীদেরও কোনো সুস্পষ্ট কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব নেই। বিরোধী পক্ষ বিভক্ত।

সোমবার তেহরানের এঙ্গেলাব স্কয়ারে বিশাল জনসমাবেশে সংসদ স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ বলেন, ইরানিরা চারটি ফ্রন্টে যুদ্ধ করছে, ‘অর্থনৈতিক যুদ্ধ, মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সামরিক যুদ্ধ এবং আজ সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ।’

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাসিত অবস্থায় থাকা ইরানের শেষ শাহর পুত্র রেজা পাহলভি নিজেকে দেশের সম্ভাব্য অন্তর্বর্তীকালীন নেতা হিসেবে উপস্থাপন করছেন এবং ইরানিদের বিক্ষোভে উৎসাহ দিয়ে আসছেন সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি ট্রাম্পকে ‘আরও দ্রুত’ হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয়, প্রেসিডেন্টকে শিগগির একটি সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’

রয়টার্সকে এক মার্কিন কর্মকর্তা জানান, ট্রাম্প মঙ্গলবার ইরান বিষয়ে বিকল্পগুলো নিয়ে জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এসব বিকল্পের মধ্যে রয়েছে সামরিক হামলা, গোপন সাইবার অস্ত্র ব্যবহার, নিষেধাজ্ঞা আরও জোরদার করা এবং সরকারবিরোধী সূত্রগুলোকে অনলাইন সহায়তা দেওয়া মতো প্রস্তাব রয়েছে বলে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে। তাদের মতে সামরিক স্থাপনায় হামলা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। কারণ কিছু স্থাপনা ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় অবস্থিত।

ইরানের ওপর হামলা হলে ইসরায়েলসহ যুক্তরাষ্ট্রের সব ঘাঁটি ও জাহাজ আমাদের বৈধ লক্ষ্যবস্তু হবে।’ বলে ওয়াশিংটনকে সতর্কবার্তা দিয়েছেন গালিবাফ।

সোমবার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ইরানের গোয়েন্দা মন্ত্রণালয় জানায়, যারা ধর্মীয় শাসনের প্রতি অনুগত আধাসামরিক স্বেচ্ছাসেবকদের হত্যা, মসজিদে অগ্নিসংযোগ এবং সামরিক স্থাপনায় হামলার মতো কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল সেসব ‘সন্ত্রাসী’ দলগুলোকে তারা আটক করেছে।

সোমবার গভীর রাত পর্যন্ত ৬৪৬ জনের মৃত্যুর তথ্য যাচাই করেছে যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন এইচআরএএনএ। আরও ৫৭৯টি প্রতিবেদিত মৃত্যুর ঘটনা তদন্ত করছে তারা। যাচাই করা মৃত ব্যক্তিদের মধ্যে ৫০৫ জন বিক্ষোভকারী, ১১৩ জন সামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য এবং ৭ জন পথচারী ছিলেন বলে জানিয়েছে সংগিঠনটি। তাদের তথ্য মতে ২৮ ডিসেম্বর বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর থেকে ১০ হাজার ৭২১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ইরান সরকার বিক্ষোভে নিহত ব্যক্তিদের কোনো সরকারি সংখ্যা প্রকাশ করেনি। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমগুলো নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের মৃত্যুর খবরই বেশি বেশি প্রচার করেছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন