ঢাকা | মঙ্গলবার
৩রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
২০শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে এক লাখ ভিসা বাতিল

মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর জানিয়েছে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর থেকে এক লাখের বেশি ভিসা বাতিল করা হয়েছে। এটি অভিবাসনবিরোধী কঠোর নীতির অংশ হিসেবে নেওয়া পদক্ষেপ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বাতিল হওয়া ভিসার মধ্যে প্রায় আট হাজার শিক্ষার্থী এবং দুই হাজার ৫০০ বিশেষায়িত কর্মী রয়েছে। দফতরের দাবি, অধিকাংশ ভিসা বাতিল হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের কারণে। তবে এসব ঘটনায় আনুষ্ঠানিক মামলা বা অভিযোগ দায়ের হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট করা হয়নি।

ট্রাম্প প্রশাসন গত মাসে জানিয়েছিল, তাদের সময়ে ২৫ লাখের বেশি স্বেচ্ছা প্রস্থান বা বহিষ্কার সম্পন্ন হয়েছে, যা তারা ‘রেকর্ড সাফল্য’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। তবে এই তালিকায় বৈধ ভিসাধারীরাও রয়েছে, যা মানবাধিকার ও আইনি প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে প্রশ্ন তোলে। পররাষ্ট্র দফতর ভিসা প্রদানের নীতিও কঠোর করেছে। আবেদনকারীদের নিরাপত্তা যাচাই জোরদার করা হয়েছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ বাড়ানো হয়েছে। দফতরের উপ-মুখপাত্র টমি পিগট জানান, বাতিল হওয়া ভিসার চারটি প্রধান কারণ হলো—ভিসার মেয়াদ অতিক্রম, মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো, হামলা এবং চুরি। ২০২৫ সালে ভিসা বাতিলের হার ২০২৪ সালের তুলনায় ১৫০ শতাংশ বেড়েছে।

এছাড়া ‘কন্টিনিউয়াস ভেটিং সেন্টার’ চালু করা হয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত বিদেশি নাগরিকদের আইনি নিয়ম মেনে রাখার পাশাপাশি যারা আমেরিকানদের জন্য হুমকি, তাদের দ্রুত শনাক্ত ও ভিসা বাতিল করতে সহায়তা করবে। মার্কিন কূটনীতিকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যেসব ভিসা আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী বা রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় মনে হতে পারে, তাদের বিষয়ে বিশেষ সতর্ক থাকতে।

সমালোচকরা অভিযোগ করছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের এই কঠোর নীতির ফলে অপরাধী এবং নিরপরাধ—উভয়ই লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছেন। শিক্ষার্থী ও সাধারণ ভিসাধারীরা নানা কারণে বৈধভাবে ভিসা হারাচ্ছেন। বিশেষ করে মার্চে ফিলিস্তিনপন্থি বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের ভিসা বাতিল হয়েছে। এছাড়া অক্টোবর মাসে ছয় বিদেশির ভিসা বাতিল করা হয়েছে, যাদের বিরুদ্ধে অনলাইনে হত্যাকাণ্ড উদযাপনের অভিযোগ ছিল।

কঠোর নীতির কারণে দেশজুড়ে বিক্ষোভ এবং সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের মিনিয়াপোলিসে অভিবাসন অভিযানের সময় তিন সন্তানের মা রেনে নিকোল গুড গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন, যা যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ক্ষোভ ও প্রতিবাদের সৃষ্টি করেছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন