ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় যুদ্ধবিরতির ঘোষণা আসার পরও ইসরায়েলি হামলা থামেনি। ধারাবাহিক বিমান হামলায় শহরের বিভিন্ন এলাকা ধ্বংসস্তুপে পরিণত হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা ধ্বংসস্তূপের মধ্যে থেকে জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় সামান্য জিনিসপত্র সংগ্রহ করছেন, যা দিয়ে তারা ধ্বংসস্তূপের মাঝেও জীবনকে নতুনভাবে সাজানোর চেষ্টা করছেন। খবরটি জানিয়েছে রয়টার্স।
দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা ইসরায়েলি হামলার কারণে গাজা এখন শুধু ধ্বংসস্তূপ ও নীরবতায় পূর্ণ। ভাঙা-বিধ্বস্ত ঘরের মধ্যে বাসিন্দারা তাদের ছোটখাটো জিনিসপত্র খুঁজে বের করছেন। এক গাজার বাসিন্দা বলেন, “বাড়িটা ধ্বংস হওয়ার পর আমার আর কিছুই নেই। এখানে শান্তি বা যুদ্ধবিরতির কোনো চিহ্ন নেই। তারা বলে শান্তি আছে, যুদ্ধবিরতি আছে, কিন্তু বাস্তবে কিছুই নেই।”
আরেক বাসিন্দা বলেন, “আমরা অন্য সবার মতোই বাঁচতে চাই। ভালোবাসা, নিরাপত্তা ও শান্তি চাই। তারা বলে সব শেষ, কিন্তু আমরা দেখছি ছোট ছোট অজুহাতে তারা আরও শক্তভাবে আঘাত করছে।”
যুদ্ধবিরতির পরও ইসরায়েল নানা অজুহাতে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। প্রতিদিন নতুন এলাকা মুহূর্তের মধ্যে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হচ্ছে। ইসরায়েল অভিযোগ করছে, হামাস যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে। অন্যদিকে হামাসও একই কারণে ইসরায়েলকে দায়ী করছে।
ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ১১ অক্টোবরের পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৪২৫ ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১,২০৬ জন আহত হয়েছেন। ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় কয়েক লাখ বাস্তুচ্যুত পরিবার এখন অস্থায়ী তাঁবুশিবিরে আশ্রয় নিয়েছে।
জাতিসংঘ ও বিভিন্ন মানবিক সংস্থার সতর্কবার্তা সত্ত্বেও ইসরায়েল আশ্রয়সামগ্রীর প্রবাহে অনুমতি দিচ্ছে না। সংস্থাগুলো জানিয়েছে, প্রাণঘাতী শীতকালীন ঝড়ে ফিলিস্তিনিরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। সাম্প্রতিক ভারী বৃষ্টিতে বহু তাঁবু পানিতে তলিয়ে গেছে। ফলে উন্নত মানের তাঁবু, কম্বল ও উষ্ণ পোশাকের জোগান জরুরি হয়ে উঠেছে।
ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস (এমএসএফ) জানিয়েছে, কঠোর জীবনযাপনের কারণে গাজায় ফিলিস্তিনিরা শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণ, ক্ষত জটিলতা এবং চর্মরোগে ভুগছেন। শিশুরা তীব্র শীতের কষ্টে ভুগছে, এবং এই অবস্থায় ইসরায়েল জরুরি সরবরাহ যেমন তাঁবু, ত্রিপল ও অস্থায়ী আবাসনে বাধা বা বিলম্ব ঘটাচ্ছে।




