ঢাকা | শুক্রবার
৩০শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৬ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

চরমোনাইকে ৪০ আসনের বেশি দিতে রাজি নয় জামায়াত

জামায়াতে ইসলামী তিনটি ইসলামি দলের সঙ্গে নির্বাচনী সমঝোতায় এনসিপিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। নবগঠিত এনসিপি যাতে নির্বাচনে শক্ত অবস্থান ধরে রাখতে পারে, তার জন্য জামায়াত ৩০টি আসন ছাড়তে রাজি হলেও চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলনকে ৪০টির বেশি আসন দেওয়ার কথা ভাবছে না। আগে জামায়াত ১৮০-১৯০ আসনে দলীয় প্রার্থী দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল, কিন্তু এখন ধানের শীষের বিরুদ্ধে অন্তত ২০০ আসনে সমর্থন থাকা প্রয়োজন বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

জামায়াত, এনসিপিসহ ১১ দল এই সমঝোতার বিষয়ে সমকালকে তথ্য দিয়েছে। দলগুলোর পরিকল্পনা ছিল ১২ জানুয়ারি ৩০০ আসনে একক প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করা, কিন্তু আসন সমঝোতার জটিলতার কারণে তা সম্ভব হয়নি। জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান জানিয়েছেন, বুধবারের মধ্যে সব দল একসাথে গণমাধ্যমে প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করবে।

তবে সমঝোতার জটিলতা বাড়ছে। প্রত্যাশিত আসন না পেলে ইসলামী আন্দোলন ও এবি পার্টি সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। জামায়াতের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, খেলাফত মজলিস, এলডিপি ও এবি পার্টিকে বিভিন্ন সংখ্যক আসন ছাড়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, তবে বাকি দলগুলোকে সর্বোচ্চ ৪০ আসন পর্যন্ত ছাড়া হবে। প্রয়োজন হলে কয়েকটি আসন উন্মুক্ত রাখা হবে বা একাধিক দলকে ছেড়ে দেওয়া হবে।

ইসলামী আন্দোলনের নেতারা ক্ষুব্ধ। তাদের দাবি, জামায়াত ময়মনসিংহ, ঢাকা ও বরিশাল বিভাগের বেশিরভাগ শক্তিশালী আসনে দলকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছে না। দলীয় প্রার্থীদের বার্তা অনুযায়ী প্রয়োজনে তারা একাই নির্বাচন করবে। চরমোনাই পীরের দল ৭০টির কম আসন পেলে জোটে না থাকার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।

জামায়াত এনসিপিকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। জরিপ অনুযায়ী এনসিপির জনসমর্থন ৭ শতাংশ হলেও, সাংগঠনিক শক্তি কম থাকায় ভোটে তা রূপান্তর করতে জামায়াতের সহায়তা প্রয়োজন। ফলে আসন সমঝোতায় এনসিপিকে ছেড়ে দেওয়া হলে অন্য দলগুলোর আপত্তি গ্রহণযোগ্য হবে না।

বাকি দলগুলোও আংশিক অসন্তুষ্ট। জামায়াত এবং ইসলামী আন্দোলনের নেতারা আনুষ্ঠানিকভাবে টানাপোড়েন স্বীকার না করলেও সামাজিক মাধ্যমে সমর্থকরা বিতর্কে জড়িত। এনসিপি, খেলাফত, এবি পার্টি ও অন্যান্য শরিক দলের সঙ্গে সমঝোতা এখনও অটুট থাকলেও ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে চূড়ান্ত সমঝোতা নিশ্চিত হয়নি। আসন বণ্টন চূড়ান্ত করতে হলে মনোনয়নপত্র বাছাই ও আপিল প্রক্রিয়ার আগে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন