ঢাকা | বৃহস্পতিবার
২৯শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৫ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

শেয়ার নেটিং চালুর তোড়জোড় ডিএসইর; অনড় বিএসইসি

সেকেন্ডারি মার্কেটে তারল্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ‘শেয়ার নেটিং’ চালুর প্রস্তাব দিলেও নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) এ বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। বিএসইসির মতে, বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় পর্যাপ্ত অবকাঠামো এবং শক্তিশালী তদারকি ব্যবস্থা গড়ে তোলার আগে এই ধরনের উচ্চঝুঁকির ট্রেডিং পদ্ধতি চালুর অনুমতি দেওয়া সম্ভব নয়। অতীতে বেশ কিছু ব্রোকারেজ হাউজের আর্থিক অনিয়ম এবং ব্যবস্থাপনার বড় ধরনের দুর্বলতার কারণেই নিয়ন্ত্রক সংস্থা এমন সাবধানী অবস্থান গ্রহণ করেছে।

‘শেয়ার নেটিং’ বা ‘স্ক্রিপ নেটিং’ মূলত একটি ইনট্রা-ডে ট্রেডিং ব্যবস্থা, যা একজন বিনিয়োগকারীকে একই কার্যদিবসে একটি নির্দিষ্ট শেয়ার একাধিকবার কেনা-বেচার সুযোগ করে দেয়। দিনের লেনদেন শেষে বিনিয়োগকারী তার মোট শেয়ারের পজিশন সমন্বয়ের এই সুবিধাটি বাজারে লেনদেনের গতি বৃদ্ধি করলেও এর সঙ্গে ‘শর্ট সেলিং’-এর মতো জটিল ঝুঁকি জড়িত থাকে। বিএসইসি আশঙ্কা করছে যে, যথাযথ প্রস্তুতি ছাড়া এটি চালু করলে সাধারণ ও অনভিজ্ঞ বিনিয়োগকারীরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন।

বিএসইসির শীর্ষ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তারা নীতিগতভাবে এই পদ্ধতির প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার করছেন না, তবে ডিএসই-কে আগে তাদের ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা সক্ষমতা ও নজরদারি ব্যবস্থা শক্তিশালী করার পরামর্শ দিয়েছেন। বর্তমানে অনেক ব্রোকারেজ হাউজ মার্জিন ঋণ ব্যবস্থাপনায় ব্যর্থ হয়ে নেতিবাচক ইক্যুইটির কবলে পড়েছে। এছাড়া অনেক বিনিয়োগকারী এখনো ব্রোকারদের ক্যাশ তছরুপের শিকার হয়ে তাদের পাওনা বা ডিভিডেন্ড সংক্রান্ত জটিলতায় ক্ষতিপূরণের অপেক্ষায় রয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে ব্রোকারেজ হাউজগুলো আর্থিক শৃঙ্খলা নিশ্চিত না করা পর্যন্ত নেটিং পদ্ধতি চালু করা নিরাপদ হবে না বলে মনে করছে কমিশন।

শেয়ার নেটিং কার্যকরভাবে চালুর জন্য বিএসইসি তিনটি মৌলিক শর্তের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। এগুলো হলো—বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আধুনিক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা প্রবর্তন করা, শর্ট সেলিংয়ের জন্য সুনির্দিষ্ট ও নিয়ন্ত্রিত আইনি কাঠামো প্রণয়ন করা এবং বাজারে সবসময় ক্রেতা-বিক্রেতার উপস্থিতি বজায় রাখতে সক্ষম ও সক্রিয় ‘মার্কেট মেকার’ প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা। এই শর্তগুলো পূরণ না হওয়া পর্যন্ত নেটিং পদ্ধতি চালুর বিষয়টি ঝুলে থাকতে পারে।

প্রাসঙ্গিকভাবে উল্লেখ্য, প্রায় দুই দশক আগে যখন শেয়ারবাজারে অটোমেশন শুরু হয়েছিল, তখন ডিএসইতে সীমিত পরিসরে নেটিং সুবিধা ছিল। তবে সেই সময়ের তুলনায় বর্তমানের বাজার অনেক বড় এবং জটিল। পর্যাপ্ত নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ছাড়া এই বিশাল বাজারে পুনরায় নেটিং চালু করলে বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিএসইসি ও ডিএসইর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তাই আসন্ন অর্থবছরগুলোতে বাজার স্থিতিশীল রাখতে নিয়ন্ত্রক সংস্থা অত্যন্ত ধীরলয়ে এবং সতর্কতার সঙ্গে এই সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নিতে চায়।

সংবাদটি শেয়ার করুন