আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটারদের সমর্থনের ধরণ তুলে ধরেছে ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ল অ্যান্ড ডিপ্লোম্যাসি (আইআইএলডি) পরিচালিত প্রাক-নির্বাচনী জনমত জরিপ। জাতীয় প্রেসক্লাবে সোমবার অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে জরিপের ফলাফল প্রকাশ করা হয়। এতে দেখা গেছে, ভোটারদের মধ্যে ৩৪.৭ শতাংশ বিএনপিকে এবং ৩৩.৬ শতাংশ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে ভোট দেবেন। এছাড়া ১৭ শতাংশ ভোটার এখনও সিদ্ধান্তহীন। ন্যাশনাল সিটিজেন্স পার্টি (এনসিপি) ৭.১ শতাংশ ভোট পেয়েছে, ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ ৩.১ শতাংশ এবং অন্যান্য দলকে ৪.৫ শতাংশ ভোটার সমর্থন করছেন।
জরিপের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সকল ভোটারকে বিবেচনায় নিলে বিএনপির সমর্থন ৪৩.২ শতাংশ এবং জামায়াতে ইসলামীর ৪০.৮ শতাংশ। ভোটারদের অংশগ্রহণের হার ৮৬.৩ শতাংশ প্রাক্কলিত করা হয়েছে।
জরিপটি ২০২৫ সালের ২১ নভেম্বর থেকে ২০ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশের ৬৪টি জেলার ২৯৫টি সংসদীয় আসনের ২২,১৭৪ জন নিবন্ধিত ভোটারের মধ্যে পরিচালিত হয়েছে। স্ট্র্যাটিফায়েড স্যাম্পলিং ডিজাইন ও জাতীয় আদমশুমারির ভিত্তিতে পোস্ট-স্ট্রাটিফিকেশন ওয়েটিং প্রয়োগ করা হয়েছে।
বিএনপির সমর্থকরা প্রধানত দলের অভিজ্ঞতা ও প্রশাসনিক সক্ষমতার কারণে দলকে সমর্থন করছেন। বিশেষ করে ৩০-৫৯ বছর বয়সী কর্মক্ষম ভোটার, কৃষক ও শ্রমিকদের মধ্যে বিএনপির সমর্থন বেশি। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামির সমর্থকরা দলটিকে কম দুর্নীতিগ্রস্ত ও সততার কারণে সমর্থন করছেন। তরুণ ভোটার (১৮-২৯ বছর) এবং উচ্চশিক্ষিত জনগোষ্ঠীর মধ্যে জামায়াতের সমর্থন সর্বোচ্চ।
নতুন রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে এনসিপির সমর্থনের পেছনে ৩৬.৭ শতাংশ ভোটার ‘জুলাই বিপ্লবের ভূমিকা’-কে উল্লেখ করেছেন। এছাড়া ১৭ শতাংশ ভোটার এখনও সিদ্ধান্তহীন, যার মধ্যে অনেকে কোনো রাজনৈতিক দলকে বিশ্বাস করতে পারছেন না। এই ভোটাররাই শেষ পর্যন্ত নির্বাচনের ফলাফল প্রভাবিত করতে পারেন।
জরিপের ফলাফল অনুযায়ী, ২০২৬ সালের নির্বাচন হবে ‘অভিজ্ঞতা ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তার’ ভিত্তিতে বিএনপি এবং ‘সততা ও ন্যায়বিচারের’ ভিত্তিতে জামায়াতের মধ্যে এক গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক লড়াই। ভোটাররা প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, দুর্নীতি দমন এবং জুলাই অভ্যুত্থানের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে আগ্রহী। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আইআইএলডির নির্বাহী পরিচালক শফিউল আলম শাহিন, রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. মুশতাক খান এবং বিডিজবসের প্রধান নির্বাহী একে এম ফাহিম মাশরুর।




