ঢাকা | শুক্রবার
৩০শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৬ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

গণভোট: হ্যাঁ কি না? জেনে নিন সব

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একসঙ্গে অনুষ্ঠিত হবে। এতে সরকার, রাজনৈতিক দল ও নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যেই গণভোটের প্রচারণা শুরু করেছে। এই গণভোট জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে যে দল সরকার গঠন করবে, তারা জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন করবে কিনা তা নির্ধারণ করা হবে জনগণের ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোটের মাধ্যমে। ‘হ্যাঁ’ ভোট জয়ী হলে সংবিধান সংস্কার কার্যকর হবে, আর ‘না’ ভোট জয়ী হলে চলমান ১৯৭২ সালের সংবিধান অব্যাহত থাকবে।

গণভোটে জয়ী হলে বাস্তবায়নযোগ্য সংস্কারগুলোর মধ্যে রয়েছে: তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন ও অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান সনদ অনুযায়ী গঠন, দুই কক্ষবিশিষ্ট সংসদ গঠন, সংসদে নারীর প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি, বিরোধী দলের জন্য ডেপুটি স্পিকার ও গুরুত্বপূর্ণ কমিটি সভাপতির পদ সংরক্ষণ, প্রধানমন্ত্রী মেয়াদ সীমিতকরণ, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার ভারসাম্য ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা। এছাড়া, সংসদ সংবিধান সংশোধনের জন্য উচ্চকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠ অনুমোদন প্রয়োজন হবে।

জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের জন্য বিশেষ আইন (অধ্যাদেশ) জারি করা হবে এবং গণভোট ও জাতীয় নির্বাচন একসাথে অনুষ্ঠিত হবে। ‘হ্যাঁ’ ভোট জয়ী হলে সংসদ সাধারণ কাজের পাশাপাশি সংবিধান সংস্কার পরিষদ হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনা করবে। সংবিধান সংস্কার সম্পন্ন হওয়ার ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে উচ্চকক্ষ গঠন করা হবে এবং সংসদের দুই কক্ষের মেয়াদ সমন্বয় করা হবে।

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ফেব্রুয়ারি মাসে সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের জন্য রাজনৈতিক দলগুলোকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। প্রধান উপদেষ্টা শফিকুল আলম জানান, সরকার গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে অবস্থান রাখবে এবং জনগণকে বিষয়টি বোঝানো হবে।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল বলেন, একই দিনে সংসদ নির্বাচন ও গণভোট আয়োজন ইতিবাচক। তিনি মনে করেন, সংবিধান সংস্কারের বিষয়ে গণভোটের মাধ্যমে জনমতের প্রতিফলন জরুরি। জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান গণভোটকে জনগণের সরাসরি মত প্রকাশের সুযোগ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ‘হ্যাঁ’ ভোট দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ বাংলাদেশ নিশ্চিত করবে। জাতীয় নাগরিক পার্টি ইতিমধ্যেই ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা শুরু করেছে।

নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে হওয়ায় আলাদা কর্মপরিকল্পনা নিতে হয়নি। শুধু গোলাপি রঙের আলাদা ব্যালট ছাপানো হয়েছে। এছাড়া ভোটকেন্দ্র, রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় ও নির্বাচনী প্রচারণার স্থানগুলোতে আলাদা ব্যানার দৃশ্যমান রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন