ঢাকা | মঙ্গলবার
৩রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
২০শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আন্তর্জাতিক আদালতে সালমান-আনিসুলের মামলার কার্যক্রম শুরু

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) সোমবার (১২ জানুয়ারি) জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে কারফিউ জারি, গণহত্যায় উসকানি এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান ও সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন। এই আদেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল।

প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের শুনানি শেষে আজকের দিনটি বিচার শুরু করার জন্য নির্ধারণ করা হয়। ৬ জানুয়ারি জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মুনসুরুল হক চৌধুরীর মাধ্যমে সালমান ও আনিসুলের অব্যাহতি চাওয়া হয়েছিল। তিনি শুনানিতে দাবি করেন, তার ক্লায়েন্টরা নির্দোষ এবং চার্জ গঠন না করার জন্য নানা যুক্তি তুলে ধরেন।

প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে ট্রাইব্যুনালে যে ফোনালাপ শোনানো হয়, সেটি সালমান ও আনিসুলের নয় বলে মুনসুরুল হক অস্বীকার করেন। তিনি বিদেশি বিশেষজ্ঞের মাধ্যমে ভয়েস রেকর্ডটি পরীক্ষা করার আবেদনও করেন, তবে ৪ জানুয়ারি করা এই আবেদন আদালত নাকচ করে দেন।

সালমান ও আনিসুলের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশন মোট পাঁচটি অভিযোগ আনে। এর মধ্যে রয়েছে কারফিউ জারি করে মারণাস্ত্র ব্যবহারে উসকানি ও ষড়যন্ত্র করা। তাদের এই কর্মকাণ্ডে মিরপুর-১, ২, ১০ ও ১৩ নম্বর এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ আওয়ামী লীগের সশস্ত্র হামলায় বহু ছাত্র ও সাধারণ মানুষ নিহত হয়েছেন। কিন্তু আসামিরা নির্যাতন বন্ধে কোনো ব্যবস্থা নেননি।

চব্বিশের জুলাই আন্দোলন দমন সংক্রান্ত নীতিগত সিদ্ধান্তও সালমান ও আনিসুল নেন। ১৯ জুলাই (২০২৪) তারা ফোনে কথা বলেন এবং কথোপকথনের এক পর্যায়ে ‘ওদের শেষ করে’ দেওয়ার নির্দেশ দেন। অর্থাৎ আন্দোলনকারীদের উপর কারফিউ জারি করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেন সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। ২২ ডিসেম্বর শুনানির সময় চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম এই অডিও রেকর্ড এবং সব অভিযোগ ট্রাইব্যুনালের সামনে উপস্থাপন করেন এবং আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আর্জি জানান। ৪ ডিসেম্বর ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ গ্রহণ করে এবং একই দিন প্রসিকিউশন ফরমাল চার্জ দাখিল করে।

সংবাদটি শেয়ার করুন