ঢাকা | শুক্রবার
৩০শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৬ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জুলাই গণহত্যা মামলার আসামিকে চেয়ারম্যান নিয়োগের প্রতিবাদে ডাকসুর স্মারকলিপি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সাবেক প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম গোলাম রাব্বানীকে বিভাগীয় চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেছে ডাকসু ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের শিক্ষার্থীরা। স্মারকলিপিতে জুলাইয়ের ছাত্র–জনতার গণঅভ্যুত্থানসংক্রান্ত একটি মামলায় তাঁর নাম অন্তর্ভুক্ত থাকার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়।

এ সময় তারা উক্ত নিয়োগ সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার, তাকে চেয়ারম্যান পদ থেকে অপসারণ এবং অভিযোগ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

রোববার (১১ জানুয়ারি) বিকেল ৩ টায় ডাকসুর সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে তারা স্মারকলিপি প্রদান করেন।

স্মারকলিপি প্রদান শেষে সংবাদ সম্মেলনে মুসাদ্দিক অভিযোগ করে বলেন, আমরা বারবার দাবি জানিয়ে আসছি যে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যেসব শিক্ষক, কর্মকর্তা ও ছাত্র গণহত্যায় প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে অংশগ্রহণ করেছে, মদদ দিয়েছে কিংবা সমর্থন জানিয়েছে, তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। এ দাবিতে আমরা বহুবার স্মারকলিপি দিয়েছি, লিখিত আবেদন করেছি। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সত্য, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এ বিষয়ে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি।

তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের সুরক্ষার দায়িত্বে থেকেও তিনি বহু ক্ষেত্রে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীদের ডেকে এনে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালান এবং ভিন্নমতাবলম্বীদের তাদের হাতে তুলে দেন, যারা পরবর্তীতে রাতের পর রাত নির্যাতনের শিকার হন।

তিনি আরও বলেন, ছাত্র অধিকার পরিষদ ও নুরুল হক নুরের ওপর হামলার ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। ২০২২ সালে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ওপর নির্মম হামলার সময়ও তার প্রত্যক্ষ মদদ ও অংশগ্রহণ ছিল। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময়, ৩ আগস্ট যখন সারাদেশে গণহত্যা চলছিল, তখন তিনি অপরাজেয় বাংলার সামনে সামনের সারিতে ব্যানার ধরে মানববন্ধন ও মিছিলে নেতৃত্ব দিয়ে গণহত্যার সমর্থন এবং ফ্যাসিবাদী শাসন টিকিয়ে রাখার মদদ দিয়েছিলেন।

মুসাদ্দিক বলেন, আমরা শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে সমস্যার সমাধান চাই। তবে আগামীকালের মধ্যে ড. গোলাম রাব্বানীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া হলে উদ্ভূত পরিস্থিতির দায় সম্পূর্ণভাবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকেই নিতে হবে। আমরা আইন হাতে তুলে নিতে চাই না, কিন্তু প্রশাসন যদি আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়, তাহলে ছাত্র-জনতাকে কঠোর কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হতে হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন