অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিন (এআইএমআইএম) সভাপতি আসাদুদ্দিন ওয়েইসি একটি মন্তব্য করে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রীর আসন নিয়ে। তিনি বলেছেন, একদিন হিজাব পরা নারীই ভারতের প্রধানমন্ত্রী হবেন। এই মন্তব্য তিনি রবিবার মহারাষ্ট্রের সোলাপুরে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকায় নির্বাচনী প্রচারের সময় করেছেন। ওয়েইসি বলেন, বিজেপি যে হিজাবকে ঘৃণা করে, সেই হিজাব পরা নারীই একদিন দেশের সর্বোচ্চ দায়িত্বে আসবেন। তিনি সংবিধানের অধিকার উল্লেখ করে বলেন, ভারতের সংবিধান অনুযায়ী যে কোনো নাগরিক—হিজাব পরা বা না পরা—প্রধানমন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী বা মেয়র হতে পারেন।
ওয়েইসি আরও বলেন, “এমন একটি সময় আসবে—হয়তো আমরা তখন থাকবো না—কিন্তু একদিন হিজাব পরা নারী প্রধানমন্ত্রী হবেন। ইনশাল্লাহ।” তিনি কেন্দ্রীয় ক্ষমতাসীন দল বিজেপিকে নিশানা করে বলেন, মুসলিমদের বিরুদ্ধে যে ঘৃণা ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, তা দীর্ঘস্থায়ী হবে না এবং যারা ঘৃণা ছড়াচ্ছে তারা শেষ হয়ে যাবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভালোবাসা ছড়িয়ে পড়লে মানুষ বুঝবে যে কতটা বিদ্বেষের পরিবেশ তৈরি হয়েছিল।
এদিকে, ওয়েইসির এই মন্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায় বিজেপি। সাংসদ অনিল বোন্দে বলেন, ওয়েইসি দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য করছেন এবং অর্ধসত্য তুলে ধরছেন। তিনি দাবি করেন, মুসলিম নারীরাও হিজাব প্রথার বিরুদ্ধে, যেমন ইরানের নারীরা প্রতিবাদ করছেন, কারণ কেউই পরাধীনতা চায় না।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সংখ্যালঘু ভোটারদের একজোট করার জন্য এই মন্তব্য করেছেন ওয়েইসি। মহারাষ্ট্রে আগামী ১৫ জানুয়ারি পৌরসভা নির্বাচনের আগে এ ধরনের বক্তব্যকে নির্বাচনী কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে।




