ঢাকা | শুক্রবার
৩০শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৬ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

পে-স্কেল ঘোষণা থেকে সরে আসছে অন্তর্বর্তী সরকার

আর্থিক সংকট ও আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সরকারি কর্মচারীদের নতুন পে-স্কেল ঘোষণা থেকে সরে এসেছে অন্তর্বর্তী সরকার। তবে এ লক্ষ্যে গঠিত জাতীয় বেতন কমিশনকে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে নতুন পে-স্কেল ঘোষণা সম্ভব না হলেও একটি কাঠামো বা ফ্রেমওয়ার্ক প্রস্তুত করা হবে, যা পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এ বিষয়ে সর্বশেষ বৃহস্পতিবার পে-কমিশনের একটি দীর্ঘ সভা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে সভাপতিত্ব করেন কমিশনের চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খান।

কমিশন সূত্র জানায়, রাজনৈতিক, আর্থিক ও সামাজিক বাস্তবতা বিবেচনায় সরকারি কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামো ঘোষণা কিছুটা বিলম্বিত হচ্ছে। ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রস্তুতির কারণে এবং আর্থিক সংকটের প্রেক্ষাপটে নির্বাচনের আগে নতুন পে-স্কেল ঘোষণার সম্ভাবনা নেই। তবে পে-কমিশন তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে জমা দেবে। সরকার সেই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে একটি সুপারিশমালা প্রস্তুত করবে, যা পরবর্তী নির্বাচিত সরকার বাস্তবায়ন করবে। এ সময় পর্যন্ত সরকারি কর্মচারীরা বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী মহার্ঘ ভাতা পেতে থাকবেন।

সূত্র আরও জানায়, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নবম পে-স্কেল নির্ধারণের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। আগামী ২১ জানুয়ারি পে-কমিশনের চূড়ান্ত সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ওই সভায় নতুন বেতন কাঠামোর সুপারিশ চূড়ান্ত করে প্রধান উপদেষ্টা ও অর্থ উপদেষ্টার কাছে হস্তান্তর করা হবে, যদিও জমা দেওয়ার নির্দিষ্ট তারিখ এখনো নির্ধারিত হয়নি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর গণমাধ্যমকে জানান, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের আগে নতুন পে-স্কেল ঘোষণার কোনো সম্ভাবনা নেই এবং বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে না, যা বাস্তবসম্মত। এদিকে কমিশনের আরেকটি সূত্র জানায়, বেতনের অনুপাত নিয়ে তিনটি প্রস্তাব—১:৮, ১:১০ ও ১:১২—পর্যালোচনা করা হয়েছে। এর মধ্যে ১:৮ অনুপাতকে চূড়ান্ত করা হয়েছে। অর্থাৎ সর্বনিম্ন গ্রেডের বেতন একক ধরলে সর্বোচ্চ গ্রেডের বেতন হবে তার আট গুণ।

সর্বনিম্ন বেতন নির্ধারণ নিয়েও তিনটি প্রস্তাব বিবেচনায় রয়েছে। প্রথম প্রস্তাবে সর্বনিম্ন বেতন ২১ হাজার টাকা, দ্বিতীয় প্রস্তাবে ১৭ হাজার টাকা এবং তৃতীয় প্রস্তাবে ১৬ হাজার টাকা নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়েছে। মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা সমন্বয়ের লক্ষ্যে গত ২৭ জুলাই ২৩ সদস্যবিশিষ্ট ‘জাতীয় বেতন কমিশন ২০২৫’ গঠন করা হয়। কমিশনের সভাপতি করা হয় সাবেক অর্থ সচিব জাকির আহমেদ খানকে।

কমিশনের দায়িত্ব হলো বেতন, ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পর্যালোচনা করে সরকারের কাছে সুপারিশ প্রদান করা। কর্মচারীদের পরিবারের সদস্যসংখ্যা ছয়জন ধরে আর্থিক ব্যয়ের হিসাব করতে কমিশনকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। গত ১৪ আগস্ট কমিশনের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয় এবং ছয় মাসের মধ্যে সুপারিশ জমা দেওয়ার কথা রয়েছে। সে হিসেবে ফেব্রুয়ারির ১৪ তারিখ কমিশনের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা, আর নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

এ বিষয়ে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, কমিশনকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে এবং দেশের আর্থসামাজিক অবস্থা ও মূল্যস্ফীতি বিবেচনায় রাখতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, সময়োপযোগী একটি বেতন কাঠামো প্রণয়নই সরকারের লক্ষ্য। সময় পেলে বর্তমান সরকার ঘোষণা দিতে পারে, আর তা বাস্তবায়নের দায়িত্ব থাকবে নতুন সরকারের ওপর।

সংবাদটি শেয়ার করুন