ঢাকা | বৃহস্পতিবার
২৯শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৫ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

‘ভারতের আধিপত্য থেকে বাংলাদেশকে মুক্ত করেছে অন্তর্বর্তী সরকার’

অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বাংলাদেশ এখন ভারতের প্রভাব ও আধিপত্য থেকে বেরিয়ে এসে স্বাধীন অবস্থান থেকে কথা বলতে পারছে বলে মন্তব্য করেছেন সরকারের আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল। তার ভাষায়, আগের মতো ভারতের আগ্রাসী ভূমিকার ছায়া আর সর্বত্র নেই; বরং বাংলাদেশ এখন নিজের কণ্ঠে মত প্রকাশের সক্ষমতা অর্জন করেছে।

তিনি বলেন, সরকারের কর্মকাণ্ড নিয়ে কিছু যৌক্তিক সমালোচনা অবশ্যই থাকতে পারে। তবে অনেক ক্ষেত্রেই সেই সমালোচনা বাস্তবতার সীমা ছাড়িয়ে নির্মম পর্যায়ে পৌঁছে যায়। উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, সরকার যদি ১০টি বিষয়ের মধ্যে ৪টি বাস্তবায়ন করে, তাহলে অন্তত সেই অর্জনের কথাও বলা উচিত। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, অর্জনগুলো উপেক্ষা করে কেবল ব্যর্থতার দিকগুলোই তুলে ধরা হয়।

শনিবার (১০ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত ‘রাজনৈতিক দল, মানবাধিকার এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা’ শীর্ষক পলিসি ডায়ালগে বক্তব্য দিতে গিয়ে এসব কথা বলেন তিনি।

বিচার বিভাগ সংস্কার প্রসঙ্গে আসিফ নজরুল বলেন, বর্তমানে বিচার বিভাগের পদ সৃষ্টি, বদলি, পদোন্নতি এবং বাজেট বরাদ্দের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো উচ্চ আদালতের হাতে ন্যস্ত করা হয়েছে। বাংলাদেশের ৫৪ বছরের ইতিহাসে রাষ্ট্রের এমন একটি বড় অঙ্গের ক্ষেত্রে এটিকে কি সংস্কার বলা যাবে না—সে প্রশ্নও তোলেন তিনি। তার মতে, এসব উদ্যোগ ভবিষ্যতে আইনের শাসন ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে, যদিও সংস্কারের ফল তাৎক্ষণিকভাবে দৃশ্যমান হয় না।

মানবাধিকার ইস্যুতে সরকারের পদক্ষেপ তুলে ধরে তিনি জানান, গুম কমিশন গঠন করে কার্যকরভাবে কাজ করা হয়েছে। সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই একটি নতুন হিউম্যান রাইটস কমিশন আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। দৃঢ়তার সঙ্গে তিনি বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের মানবাধিকার আইনের তুলনায় বাংলাদেশের আইনটি আরও উন্নত। খুব শিগগিরই এই আইনের আলোকে মানবাধিকার কমিশনে নিয়োগ দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

অন্তর্বর্তী সরকারের বিভিন্ন অর্জনের কথা তুলে ধরে শ্রোতাদের উদ্দেশে প্রশ্ন রেখে আসিফ নজরুল বলেন, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি, মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, ভঙ্গুর ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ও আস্থা ফিরিয়ে আনা—এসব কি সাফল্য নয়? পাশাপাশি বিরোধী দল ও ভিন্নমতের প্রায় পাঁচ লাখ মানুষকে জড়ানো ২০ হাজারের বেশি হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

সংবাদটি শেয়ার করুন