গ্রিনল্যান্ডকে লিজ নেওয়ার পরিবর্তে কেন সম্পূর্ণ মালিকানা চান—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, কোনো ভূখণ্ডকে যথাযথভাবে সুরক্ষিত রাখতে হলে তার মালিক হওয়া জরুরি। লিজ নেওয়া এলাকায় সেই মাত্রার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।
রুশ বার্তা সংস্থা তাসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার (১০ জানুয়ারি) ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড কেনার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ নিয়ে আপাতত বিস্তারিত আলোচনা না করলেও ভবিষ্যতে বিষয়টি নিয়ে আলোচনার সুযোগ খোলা রেখেছেন। এর আগে ২০২৫ সালের মে মাসে এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারেও তিনি সামরিক শক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ করেননি। একই সঙ্গে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট জানিয়েছেন, গ্রিনল্যান্ড কেনার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র সক্রিয়ভাবে মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা করছে।
বর্তমানে গ্রিনল্যান্ড ডেনমার্কের একটি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল। ১৯৫১ সালের প্রতিরক্ষা চুক্তি অনুযায়ী, ন্যাটোর আওতায় গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তার দায়িত্ব যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ন্যস্ত। এ প্রসঙ্গে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স আশা প্রকাশ করেছেন, গ্রিনল্যান্ড ভবিষ্যতে প্রথমে স্বাধীনতা অর্জন করবে এবং পরে শান্তিপূর্ণভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে।
তবে হোয়াইট হাউসের সাম্প্রতিক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, কমান্ডার-ইন-চিফ হিসেবে প্রেসিডেন্টের কাছে সামরিক শক্তি ব্যবহারের বিকল্প সবসময়ই উন্মুক্ত। ট্রাম্প নিজেও জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার স্বার্থে গ্রিনল্যান্ডের মালিকানা অর্জনকে তিনি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছেন, এমনকি আন্তর্জাতিক আইনের বিষয়টি উপেক্ষা করতেও তিনি প্রস্তুত।
গ্রিনল্যান্ডকে ঘিরে এই অবস্থানের ফলে বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণের আভাস মিলছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ডেনমার্ক যেখানে নিজেদের সার্বভৌমত্ব রক্ষার কথা বলছে, সেখানে ট্রাম্প মালিকানার দাবিতে অনড় অবস্থানে রয়েছেন। খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই দ্বীপকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও চীনের প্রতিযোগিতা ক্রমেই বিপজ্জনক রূপ নিচ্ছে, যা গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ ও বৈশ্বিক স্থিতিশীলতায় বড় প্রভাব ফেলতে পারে।




