ঢাকা | বৃহস্পতিবার
২৯শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৫ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জেএফ-১৭ নিয়ে ঢাকা–ইসলামাবাদ আলোচনা, সতর্কভাবে পর্যবেক্ষণ করছে দিল্লি

বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে সম্ভাব্য সামরিক সহযোগিতা এবং যুদ্ধবিমান কেনা নিয়ে আঞ্চলিক নিরাপত্তা সমীকরণে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান কেনা সংক্রান্ত কথাবার্তা ঘিরে ভারত পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানিয়েছে নয়াদিল্লি।

শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল। তিনি বলেন, যেসব ঘটনা বা সিদ্ধান্ত ভারতের জাতীয় নিরাপত্তার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে, সেগুলোর ওপর দিল্লি তীক্ষ্ণ নজর রাখছে।

বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর প্রধান হাসান মাহমুদ খানের সাম্প্রতিক ইসলামাবাদ সফর এবং সেখানে যুদ্ধবিমান সংক্রান্ত আলোচনা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে জয়সওয়াল বলেন, “জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিটি বিষয় আমরা গুরুত্ব সহকারে পর্যবেক্ষণ করছি।”

সংবাদ সম্মেলনে আগামী ২৯ জানুয়ারি থেকে ঢাকা ও করাচির মধ্যে সরাসরি ফ্লাইট পুনরায় চালুর প্রসঙ্গও উঠে আসে। এ ফ্লাইট চলাচলের জন্য ভারতের আকাশসীমা ব্যবহারে ঢাকা কোনো অনুরোধ জানিয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, এ ধরনের বিষয় বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় বিমান পরিষেবা চুক্তির আওতায় নিষ্পত্তি করা হয়।

বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার বিষয়েও ভারতের অবস্থান তুলে ধরেন রণধীর জয়সওয়াল। তিনি বলেন, বাংলাদেশে উগ্রবাদী গোষ্ঠীর মাধ্যমে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ঘরবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ধারাবাহিক হামলার একটি উদ্বেগজনক প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, এসব সহিংস ঘটনাকে অনেক সময় ব্যক্তিগত শত্রুতা, রাজনৈতিক বিরোধ কিংবা অন্যান্য অপ্রাসঙ্গিক কারণ হিসেবে উপস্থাপন করার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এমন দৃষ্টিভঙ্গি অপরাধীদের আরও উৎসাহিত করে এবং সংখ্যালঘুদের মধ্যে ভয় ও নিরাপত্তাহীনতা বাড়ায়।

এদিকে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের সাম্প্রতিক জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের উত্তরে ভারতের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে জয়সওয়াল বলেন, ভারত সবসময় অংশগ্রহণমূলক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনের পক্ষে।

তার ভাষায়, “একটি বিশ্বাসযোগ্য জনমত ও গণভিত্তিক ম্যান্ডেট প্রতিষ্ঠার জন্য নির্বাচন প্রক্রিয়ায় সব পক্ষের অংশগ্রহণ অত্যন্ত জরুরি”—এ নীতিগত অবস্থানে ভারত অবিচল রয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন