ঢাকা | বৃহস্পতিবার
২৯শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৫ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে জবানবন্দি দিলেন সাবেক সেনাপ্রধান

সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) ইকবাল করিম ভূঁইয়া আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার কাছে জবানবন্দিতে বিস্তারিত তথ্য প্রদান করেছেন, যেখানে উল্লেখ আছে, গত দুই দশকে গুম-খুনের ঘটনায় র‌্যাব ও সেনা কর্মকর্তাদের জড়িত থাকার বিষয়ে। তিনি তার জবানবন্দিতে সাবেক সেনা কর্মকর্তা মে. জে. (অব.) জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে বিচারবহির্ভূত হত্যার তথ্য তুলে ধরেছেন।

জেনারেল ইকবাল করিম ভূঁইয়া জানিয়েছেন, র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালকের (এডিজি) দায়িত্ব নেয়ার পর জিয়াউল আচরণে ক্রমশ উচ্ছৃঙ্খল হয়ে ওঠেন এবং এ সময় বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের সংখ্যা বেড়ে যায়। আর্মি সিকিউরিটি ইউনিট (এএসইউ) সূত্রে জানা যায়, জিয়া নিজের আবাসিক টাওয়ারে নিরাপত্তা গার্ড রেখেছিলেন, অস্ত্র মজুত করেছিলেন এবং সিসিটিভি লাগিয়েছিলেন। তবে তাকে তা সরানোর এবং অফিসিয়াল কোয়ার্টারের নিয়মকানুন মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

সাবেক সেনাপ্রধান বলেন, “ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ফজল আমাকে জানায় জিয়ার সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করলে মনে হতো যেন মস্তিষ্কে পাথর বা ইটের টুকরো বসানো রয়েছে, যাকে বোঝানো অসম্ভব।” নিরাপত্তা উপদেষ্টা তারেক সিদ্দিকী এবং তার ঘনিষ্ঠ সহকর্মীদের কারণে জিয়া তার নির্দেশ চ্যালেঞ্জ করতে শুরু করেন। শেষ পর্যন্ত রেললাইনের পশ্চিম পাশের ক্যান্টনমেন্টে তাকে ‘পারসোনা নন গ্রাটা’ ঘোষণা করা হয়।

ইকবাল করিম আরও উল্লেখ করেছেন, ১৯৯৬-২০০১ সময়ের অভিজ্ঞতা থেকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একচেটিয়া ক্ষমতা করার জন্য নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। এর মধ্যে ছিল যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল, সংবিধান লঙ্ঘনের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড, এবং সেনাবাহিনীতে অনুগত ও অযোগ্য কর্মকর্তাদের পদোন্নতি।

তিনি বলেন, শেখ হাসিনা মেজর জেনারেল তারেক আহমেদ সিদ্দিকীকে নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেন, যিনি প্রধানমন্ত্রীর ও সেনাপ্রধানের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সব পদোন্নতি ও কেনাকাটার অনুমোদন নিয়ন্ত্রণ করতে শুরু করেন। এ প্রক্রিয়ায় সেনা সদর দপ্তরে চাপ বৃদ্ধি পায়, এবং ডিজিএফআই, এনএসআই, এএফডি, বিজিবি, আনসার, এনটিএমসি, ডিজিডিপি ও র‌্যাবের কিছু কর্মকাণ্ড গুম, খুন, জমি দখল ও অপহরণের সঙ্গে জড়িত হয়।

গত ১৫ বছরে শতাধিক গুম-খুনের ঘটনায় মে. জে. (অব.) জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে আগামী ১৪ জানুয়ারি এ বিষয়ে আদেশ ঘোষণার জন্য দিন ধার্য করা হয়েছে। এই মামলায় সাবেক সেনাপ্রধান ইকবাল করিম ভূঁইয়া, জিয়ার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেবেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন