ঢাকা | বৃহস্পতিবার
২৯শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৫ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

তামিমকে ‘ভারতীয় দালাল’ বললেন বিসিবি পরিচালক, প্রতিবাদে সরব ক্রিকেটাররা

বাংলাদেশ ক্রিকেটে আবারও উত্তাপ ছড়াল বিতর্কিত মন্তব্যে। জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপত্তিকর বক্তব্য দিয়ে সমালোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক ও অর্থ কমিটির চেয়ারম্যান এম নাজমুল ইসলাম। তাঁর মন্তব্য ঘিরে ক্রিকেট অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে, সরব হয়েছেন বর্তমান ও সাবেক ক্রিকেটাররা, প্রতিবাদ জানিয়েছে ক্রিকেটারদের সংগঠন কোয়াব।

টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ উপলক্ষে বাংলাদেশের ভারতে খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে সম্প্রতি দেশজুড়ে আলোচনা চলছে। এই প্রসঙ্গে এক অনুষ্ঠানে তামিম ইকবাল বলেন, বাংলাদেশের ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ এবং আন্তর্জাতিক বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি। তাঁর সেই বক্তব্যের একটি ফটোকার্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করে ‘ফ্রেন্ডস’ প্রাইভেসিতে এম নাজমুল ইসলাম লেখেন,
‘এইবার আরো একজন পরীক্ষিত ভারতীয় এজেন্টের আত্মপ্রকাশ বাংলার জনগণ দুচোখ ভরে দেখলো।’

এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর বিষয়টি নিয়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে। নাজমুল ইসলামের বক্তব্যের ব্যাখ্যা জানতে যোগাযোগ করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। তবে পরে তিনি আবারও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আরেকটি পোস্ট করেন। সেখানে তিনি দাবি করেন, মোস্তাফিজুর রহমান ইস্যুতে ভারতের নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় ক্রীড়া উপদেষ্টা ও পররাষ্ট্র উপদেষ্টার সমর্থনে বিশ্বকাপের ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে। সেই প্রেক্ষাপটে তামিম ইকবালের বক্তব্যকে তিনি দেশের জনগণের আবেগের বিরুদ্ধে অবস্থান বলে উল্লেখ করেন। পোস্টের শেষে এটিকে নিজের “ব্যক্তিগত মতামত” বলেও দাবি করেন তিনি।

এ ঘটনায় এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি তামিম ইকবাল। তবে জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্পিনার তাইজুল ইসলাম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, একজন বোর্ড পরিচালকের মুখে এমন শব্দচয়ন রুচিহীন ও অগ্রহণযোগ্য। তিনি নাজমুল ইসলামের প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়া এবং জবাবদিহিতার দাবি জানান।

একই সুরে কথা বলেন সাবেক টেস্ট অধিনায়ক মুমিনুল হক। তিনি মন্তব্য করেন, একজন সিনিয়র ক্রিকেটারকে ন্যূনতম সম্মান না দেখিয়ে জনসম্মুখে অপমান করা বোর্ডের নৈতিকতা ও দায়িত্ববোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

জাতীয় দলের পেসার তাসকিন আহমেদও প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, দেশের ক্রিকেটে বড় অবদান রাখা একজন সাবেক অধিনায়ককে ঘিরে এ ধরনের মন্তব্য দেশের ক্রিকেট সংস্কৃতির জন্য ক্ষতিকর। তিনি বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখার আহ্বান জানান সংশ্লিষ্ট মহলের প্রতি।

এদিকে ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (কোয়াব) এক বিবৃতিতে জানায়, তারা এই মন্তব্যে স্তব্ধ, বিস্মিত ও ক্ষুব্ধ। কোয়াবের ভাষ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম সফল ক্রিকেটারকে নিয়ে এমন বক্তব্য শুধু ব্যক্তিগতভাবে নয়, পুরো ক্রিকেট সমাজের জন্য অপমানজনক। দায়িত্বশীল পদে থাকা একজন বোর্ড পরিচালকের আচরণবিধি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে সংগঠনটি।

এই ঘটনায় বিসিবি কী পদক্ষেপ নেয়, সেটির দিকেই এখন তাকিয়ে দেশের ক্রিকেট অঙ্গন।

 

 

সংবাদটি শেয়ার করুন