নতুন বছর ২০২৬-এর সূচনালগ্নেই (০৪–০৮ জানুয়ারি) ইতিবাচক ধারায় এগিয়েছে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। সপ্তাহের শেষ কর্মদিবসে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ১.৭৯ শতাংশ বা ৮৭.৯৪ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৯৯৮.৫৫ পয়েন্টে। বছরের শুরুতে বাজারের এই ঊর্ধ্বগতি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে আশাবাদ তৈরি করেছে।
ডিএসইর সাপ্তাহিক পর্যালোচনায় দেখা যায়, সূচকের পাশাপাশি লেনদেনেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। বিদায়ী সপ্তাহে মোট শেয়ার লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৩৭২ কোটি ৭২ লাখ টাকা, যা আগের সপ্তাহের তুলনায় প্রায় ৬৭.৪২ শতাংশ বেশি। একই সময়ে প্রতিদিনের গড় লেনদেন ৩৩.৯৩ শতাংশ বেড়ে ৪৭৪ কোটি ৪৫ লাখ টাকায় উন্নীত হয়।
বাজার মূলধনেও সামান্য হলেও ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা গেছে। সপ্তাহ শেষে ডিএসইর বাজার মূলধন ০.৩৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৮৩ হাজার ১৮০ কোটি টাকা। লেনদেনের এই গতি বাজারে সামগ্রিক সক্রিয়তার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সাপ্তাহিক লেনদেনের শীর্ষে নিজেদের আধিপত্য বজায় রেখেছে ওরিয়ন ইনফিউশন। কোম্পানিটির প্রতিদিন গড়ে ২২৮.৯৭ মিলিয়ন টাকার শেয়ার হাতবদল হয়েছে, যা ডিএসইর মোট লেনদেনের ৪.৮৩ শতাংশ। লেনদেনের তালিকায় পরের দুটি স্থানে রয়েছে যথাক্রমে স্কয়ার ফার্মা ও সিটি ব্যাংক।
দর বৃদ্ধির তালিকায় সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে তাল্লু স্পিনিং। সপ্তাহজুড়ে কোম্পানিটির শেয়ার দর বেড়েছে ২০.২৯ শতাংশ। এ ছাড়া জিকিউ বলপেনের দর ১৬.৩৩ শতাংশ, পূবালী ব্যাংকের ১৪.০২ শতাংশ এবং ইসলামী ব্যাংকের ১২.৬৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
অন্যদিকে, দরপতনের দিক থেকে সবচেয়ে চাপের মুখে পড়েছে ব্যাংক বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো। শীর্ষ পতনের তালিকায় প্রথম তিনটি অবস্থান দখল করেছে পিপলস লিজিং, ফারইস্ট ফাইন্যান্স ও এফএএস ফাইন্যান্স। এর মধ্যে পিপলস লিজিংয়ের শেয়ার দর সর্বোচ্চ ২৭.৫৯ শতাংশ কমেছে।
সাপ্তাহিক চিত্রে দেখা যায়, ডিএসইতে লেনদেন হওয়া কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর মধ্যে ১৭৬টির দর বেড়েছে, ১৭৭টির কমেছে এবং ৩৬টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। একই সময়ে ডিএসইএস শরিয়াহ সূচক ০.৪৮ শতাংশ এবং ডিএস৩০ সূচক ২.৪৩ শতাংশ বেড়ে সপ্তাহ শেষ করেছে।




