ঢাকা | শুক্রবার
৩০শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৬ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

চীনে বইপড়াকে জাতীয় সংস্কৃতিতে রূপ দিতে আইন

চীন এখন বইপড়াকে জাতীয় সাংস্কৃতিক অঙ্গ হিসেবে আরো শক্তিশালী করার লক্ষ্যে নতুন বিধিমালা প্রবর্তন করছে। স্মার্ট কারখানা ও এআই-রোবটের যুগে গ্রন্থপাঠকে উপেক্ষিত হতে না দেওয়ার উদ্দেশ্যে আইনপ্রণেতারা পাঠাভ্যাস বৃদ্ধির জন্য অবকাঠামোগত সহায়তা, দীর্ঘ সময় পাঠাগার খোলা রাখা, আধুনিক পাঠকক্ষ নির্মাণ এবং পরিকল্পিত অর্থায়ন নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নিচ্ছে। নতুন বিধিমালার অংশ হিসেবে এপ্রিলের চতুর্থ সপ্তাহকে ‘জাতীয় পাঠ সপ্তাহ’ ঘোষণা করা হয়েছে, যা একদিনের বিশ্ব বই দিবসের সীমা ছাড়িয়ে গোটা সপ্তাহ ধরে সবার জন্য বইপড়ার উৎসব হিসেবে উদযাপিত হবে।

বিধিমালার লক্ষ্য শুধু বইপড়ার সংখ্যা বাড়ানো নয়; বরং নাগরিকদের বৌদ্ধিক, নৈতিক ও সাংস্কৃতিক সক্ষমতাও সমৃদ্ধ করা। এখানে বইপড়া ব্যক্তিগত শখ নয়, জাতীয় সাংস্কৃতিক অবকাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রকাশক, গ্রন্থাগার, বইয়ের দোকান ও সামাজিক সংগঠনগুলোকে এক কাঠামোর মধ্যে আনা হয়েছে। শিশু থেকে বৃদ্ধ, শহর থেকে গ্রাম—সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা হয়েছে।

দুই দশকের প্রচেষ্টায় ২০২৪ সালে চীনের পাঠের হার ৮২ শতাংশে পৌঁছেছে। তবু অঞ্চলভেদে বৈষম্য, মানসম্মত বিষয়বস্তুর ঘাটতি এবং ডিজিটাল পাঠের অসম মান থেকে যায়। নতুন আইন সেই ফাঁকগুলো পূরণ করতে এবং ‘জনস্বার্থ’ হিসেবে ভালো বইকে স্বীকৃতি দিতে তৈরি করা হয়েছে। চীনের পাঠ সংস্কৃতিকে শক্তিশালী করার এই উদ্যোগে বোঝা যায়, সরকার বইপড়াকে কৌশলগত অগ্রাধিকার হিসেবে নিয়েছে।

বিধিমালা শিক্ষার্থী থেকে পেশাজীবী, শিশু থেকে বৃদ্ধ, লিঙ্গ বা সামাজিক অবস্থান নির্বিশেষে সবাইকে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা করেছে। এটি ব্যক্তিগত অভ্যাসের বাইরে সামাজিক বোঝাপড়া, সংহতি এবং শাসন ব্যবস্থার উন্নতিতেও ভূমিকা রাখবে। চিয়াংসু প্রদেশ ২০১৪ সাল থেকে স্থানীয়ভাবে পাঠ প্রচার শুরু করে, যা পরে দেশব্যাপী মডেল হিসেবে নেয়া হয়। ২০১৬ সালে প্রথম জাতীয় পাঠদানের প্রচারণা শুরু হয় এবং ২৩ এপ্রিলকে পাঠপ্রচারের প্রধান দিন হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

২০২৫ সালে শীর্ষ নেতৃত্ব ১৫তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার মধ্যে পাঠ সংস্কৃতিকে উচ্চ অগ্রাধিকার দেয়। বর্তমানে চীনে ৩,২০০-এর বেশি পাবলিক লাইব্রেরি এবং এক লাখের বেশি বইয়ের দোকান রয়েছে। বেইজিংয়ে বছরে ৩০ হাজারের বেশি পাঠসংক্রান্ত অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। নতুন বিধিমালায় মানসম্মত বই নিশ্চিত করতে প্রকাশকদের জন্য নির্দেশনা এবং সহায়তা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অপ্রাপ্তবয়স্ক, প্রবীণ এবং প্রতিবন্ধীদের জন্য বিশেষ সুবিধা এবং গ্রামীণ ও সীমান্তবর্তী এলাকায় সহায়তাকেও অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

এই নতুন নীতিমালা সরকারের, স্কুলের, প্রকাশকের এবং অন্যান্য অংশীদারের ভূমিকা স্পষ্ট করছে, যার মাধ্যমে বাজার ও সামাজিক ব্যবস্থায় রয়ে যাওয়া ফাঁকফোকরগুলো পূরণ হবে এবং চীনে বইপড়ার সংস্কৃতি আরও দৃঢ় হবে।

 

সংবাদটি শেয়ার করুন