ঢাকা | বৃহস্পতিবার
৫ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
২২শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

উত্তরার বিমান দুর্ঘটনায় পরিবারদের পাঁচ দফা দাবি

রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়ীতে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ক্যাম্পাসে বিমানবাহিনীর প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো তাদের পাঁচ দফা দাবির বিষয়টি বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনে (ক্র্যাব) এক সংবাদ সম্মেলনে প্রকাশ করেছে।

পরিবারের সদস্যরা জানান, দুর্ঘটনার মূল কারণ ছিল পাইলটের ত্রুটি, বিমানবাহিনীর রক্ষণাবেক্ষণে অবহেলা এবং স্কুল ভবনের বিল্ডিং কোড অমান্য।

ক্ষতিগ্রস্তরা দাবি করেছেন—তদন্ত রিপোর্টে উল্লিখিত পাইলটের ত্রুটি ও ভবন নির্মাণে অনিয়মের জন্য সংশ্লিষ্টদের শাস্তি নিশ্চিত করা, সাবেক বিমানবাহিনী প্রধানের দুর্নীতির মাধ্যমে বকেয়া তিন হাজার কোটি টাকার পুনরুদ্ধার ও ক্ষতিপূরণ প্রদান।

এছাড়া নিহত শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের ‘শহীদী মর্যাদা’ ও সনদ প্রদানের পাশাপাশি মেমোরিয়াল নির্মাণ, প্রতি বছর ২১ জুলাইকে ‘জাতীয় শিক্ষা শোক দিবস’ ঘোষণা, উত্তরায় আধুনিক মসজিদ কমপ্লেক্স নির্মাণ ও শিশুদের কবরের স্থায়ী রক্ষণাবেক্ষণ, এবং ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করার দাবি তুলেছেন।

পরিবারগুলো অভিযোগ করেছেন, ২০২১–২০২৪ সালের মধ্যে বিমানবাহিনীর বাজেটে দুর্নীতি না হলে প্রশিক্ষণ বিমানগুলো যথাযথভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করা সম্ভব হত, এবং দুর্নীতির কারণে ৩৬ জন প্রাণ হারিয়েছেন ও ১৭২ জন আহত হয়েছেন। তারা মাইলস্টোন স্কুল কর্তৃপক্ষের বিল্ডিং কোড অমান্যকেও হতাহতের বড় কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত আশরাফুল ইসলাম, রেজাউল করিম ও রফিক মোল্লারা কান্নায় ভেঙে পড়েন।

তারা জানান, ২০২৫ সালে ফায়ার সার্ভিসের ঘোষণা অনুযায়ী নিহতদের ২০ লাখ ও আহতদের ৫ লাখ টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি তারা প্রত্যাখ্যান করেছেন। এছাড়া ১ কোটি টাকার সম্ভাব্য ক্ষতিপূরণ প্রস্তাবও তারা বাতিল করেছেন এবং সুনির্দিষ্ট ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন।

পরিবাররা আরও জানিয়েছে, হাইকোর্টে দায়ের করা রিট পিটিশন (নম্বর ১১৮৪২/২০২৫) এবং প্রশাসনের প্রতিশ্রুতিগুলো এখনও বাস্তবায়িত হয়নি। তারা বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও দপ্তরে স্মারকলিপি প্রদান করে দ্রুত হস্তক্ষেপের মাধ্যমে ন্যায়বিচার ও মৃতদের আত্মার শান্তি কামনা করেছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন