ঢাকা | শুক্রবার
৩০শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৬ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ইউরোপমুখী অনিয়মিত অভিবাসনে শীর্ষে বাংলাদেশিরা

২০২৫ সালে ইউরোপে অনিয়মিতভাবে প্রবেশ করা অভিবাসীদের মধ্যে বাংলাদেশি নাগরিকদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি বলে উঠে এসেছে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণে। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) ও ইউরোপীয় সীমান্ত ও উপকূলরক্ষী সংস্থা ফ্রন্টেক্সের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের বহিঃসীমান্তে শনাক্ত হওয়া জাতীয়তার তালিকায় বাংলাদেশিরা শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে।

সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, আফ্রিকা ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশ থেকে আগত অভিবাসীদের মধ্যে বাংলাদেশিদের পরেই রয়েছে মিসর ও আফগানিস্তানের নাগরিকরা। এই তিন দেশের অভিবাসীরাই ইউরোপমুখী অনিয়মিত যাত্রায় সবচেয়ে বেশি প্রতিনিধিত্ব করছে।

ফ্রন্টেক্স জানায়, ২০২৫ সালের প্রথম ১১ মাসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিভিন্ন সীমান্ত পয়েন্টে অনিয়মিতভাবে প্রবেশের ঘটনায় বাংলাদেশি নাগরিকদের উপস্থিতি সবচেয়ে বেশি লক্ষ্য করা গেছে। সীমান্ত নজরদারি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা কঠোর করা হলেও বাংলাদেশিদের এই প্রবণতা কমেনি।

ইউএনএইচসিআরের পরিসংখ্যানে আরও দেখা যায়, ভূমধ্যসাগরীয় রুট ব্যবহার করে ইউরোপে পৌঁছানো অভিবাসীদের মধ্যেও বাংলাদেশিরা অন্যতম প্রধান জাতীয়তা হিসেবে রয়েছে। এই তালিকায় বাংলাদেশ ছাড়াও রয়েছে মিসর ও আফগানিস্তানের নাম।

ফ্রন্টেক্সের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বর্তমানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বহিঃসীমান্তে সবচেয়ে বেশি শনাক্ত হওয়া নাগরিকদের মধ্যে বাংলাদেশিরা প্রথম সারিতে রয়েছে। মানবপাচার রোধ ও সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ জোরদার করা হলেও বাংলাদেশিদের ইউরোপমুখী অনিয়মিত অভিবাসন অব্যাহত রয়েছে।

সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশি অভিবাসীরা মূলত সেন্ট্রাল ভূমধ্যসাগরীয় রুট ব্যবহার করে ইউরোপে প্রবেশ করছেন। বিশেষ করে লিবিয়া হয়ে ইতালির উপকূল এবং গ্রিসের বিভিন্ন দ্বীপে পৌঁছানোর ঘটনা বেশি দেখা যাচ্ছে। এই ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রপথে যাত্রার পেছনে লিবিয়াভিত্তিক মানবপাচার চক্রগুলোর সক্রিয় ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেছে ফ্রন্টেক্স।

ফ্রন্টেক্সের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, বাংলাদেশিদের ইউরোপমুখী অভিবাসনের পেছনে অর্থনৈতিক চাপ, কর্মসংস্থানের অভাব এবং বিদেশে ভালো আয়ের প্রত্যাশা বড় ভূমিকা রাখছে। মানবপাচারকারীরা এসব বাস্তবতাকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশিদের বিপজ্জনক পথে ইউরোপে যাওয়ার প্রলোভন দেখাচ্ছে।

সংস্থাটি আরও জানায়, কর্মসংস্থানের সীমাবদ্ধতা ও আয় বৃদ্ধির সুযোগের অভাব বাংলাদেশ থেকে অনিয়মিত অভিবাসনের অন্যতম প্রধান চালিকা শক্তি হিসেবে কাজ করছে।

ইউরোপীয় সংস্থাগুলোর তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, বাংলাদেশ থেকে ইউরোপমুখী এই অনিয়মিত অভিবাসনের ধারা নতুন নয়। গত কয়েক বছর ধরেই বাংলাদেশিরা ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে পৌঁছানো শীর্ষ জাতীয়তাগুলোর মধ্যে রয়েছে। তবে ২০২৫ সালে এসে এই প্রবণতা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।

বাংলাদেশিদের পাশাপাশি মিসর ও আফগানিস্তানের নাগরিকরাও ইউরোপে অনিয়মিতভাবে প্রবেশকারীদের তালিকায় উল্লেখযোগ্য অবস্থানে রয়েছে। মিসরীয়রা প্রধানত ইতালি ও গ্রিসের ক্রিট দ্বীপে পৌঁছাচ্ছেন, আর আফগানরা স্থল ও সমুদ্র—দুই পথই ব্যবহার করছেন।

সব মিলিয়ে, ইউরোপীয় সীমান্তে নজরদারি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কড়াকড়ি করা হলেও বাংলাদেশিদের অনিয়মিত অভিবাসনের ক্ষেত্রে এর প্রভাব সীমিতই থেকে যাচ্ছে বলে মনে করছে ফ্রন্টেক্স।

সংবাদটি শেয়ার করুন