ঢাকা | বৃহস্পতিবার
২৯শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৫ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

শেয়ারবাজারে আসতে ১০ কোম্পানিকে সরকারের সবুজ সংকেত

শেয়ারবাজারের গভীরতা বৃদ্ধি এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে লাভজনক রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ও বহুজাতিক ‘ব্লুচিপ’ কোম্পানিগুলোকে তালিকাভুক্ত করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এই পদক্ষেপের ফলে বেশ কিছু শক্তিশালী সরকারি সংস্থা সরাসরি তালিকাভুক্তির প্রক্রিয়ায় প্রবেশ করবে, অন্যদিকে বহুজাতিক কোম্পানিগুলো তাদের নিজস্ব পর্ষদ সভার মাধ্যমে বাজারে আসার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।

বুধবার (৭ জানুয়ারি) অর্থ মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে প্রাথমিকভাবে ১০টি বড় প্রতিষ্ঠানকে শেয়ারবাজারে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠক শেষে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ এবং ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি)-এর চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবু আহমেদ এই সিদ্ধান্তের কথা গণমাধ্যমকে জানান। সভায় বাণিজ্য, জ্বালানি ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টাসহ বিএসইসি ও আইসিবির শীর্ষ কর্মকর্তারা অংশ নেন।

বাজারে আসার অপেক্ষায় থাকা ১০টি প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে— কর্ণফুলি গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড, কর্ণফুলি ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো), নর্থ-ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি লিমিটেড এবং পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড। এছাড়া বহুজাতিক জায়ান্টগুলোর মধ্যে সিনজেন্টা বাংলাদেশ, সিলেট গ্যাস ফিল্ডস, ইউনিলিভার বাংলাদেশ, সিনোভিয়া বাংলাদেশ, নোভার্টিস এবং নেসলে বাংলাদেশ পিএলসির নাম আলোচনায় প্রাধান্য পেয়েছে।

অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, শেয়ারবাজার এখন একটি শক্তিশালী আইনি কাঠামোর ওপর দাঁড়িয়েছে। এখন আমাদের মূল লক্ষ্য হলো মৌলভিত্তি সম্পন্ন সরকারি কোম্পানির শেয়ার অফলোড করে বাজারের ভিত্তি মজবুত করা। বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে সরকারের অংশীদারত্ব থাকলেও তারা এখনো তালিকাভুক্ত নয়, তাই সরকারের পক্ষ থেকে এসব কোম্পানিকে দ্রুত বাজারে আসার প্রক্রিয়া শুরু করার সবুজ সংকেত দেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, ইতিমধ্যে শিল্প মন্ত্রণালয় ও জ্বালানি মন্ত্রণালয় শেয়ার ছাড়ার বিষয়ে দাপ্তরিক সম্মতি প্রদান করেছে।

আইসিবির চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবু আহমেদ জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে বলেন, ভারত, পাকিস্তান বা থাইল্যান্ডের মতো প্রতিবেশী দেশগুলোতে যদি নেসলে ও ইউনিলিভারের মতো ব্র্যান্ডগুলো তালিকাভুক্ত হতে পারে, তবে বাংলাদেশে বাধা থাকার কোনো যৌক্তিক কারণ নেই। তিনি প্রস্তাব করেন যে, এসব কোম্পানিকে তালিকাভুক্ত করতে প্রয়োজনে কর ছাড় বা বিশেষ প্রণোদনা দেওয়া যেতে পারে; আবার তারা যদি অনিচ্ছুক হয় তবে কর বাড়িয়ে কঠোর হওয়ার পথও খোলা রয়েছে।

বৈঠকে বিশেষভাবে ইউনিলিভার বাংলাদেশের কথা উল্লেখ করা হয়, যেখানে সরকারের প্রায় ৪০ শতাংশ মালিকানা রয়েছে। আইসিবি চেয়ারম্যানের মতে, এই বিশাল অংশীদারত্ব থেকে সামান্য অংশ বাজারে ছাড়লেও বিনিয়োগকারীদের জন্য তা বড় সুযোগ তৈরি করবে। তবে বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর ক্ষেত্রে তাদের বৈশ্বিক বোর্ড সভা থেকে অনুমোদনের বিষয়টি একটি আইনি ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা দ্রুত সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন