ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সামরিক হামলা এবং প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণের চেষ্টা লাতিন আমেরিকাজুড়ে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। অনেক দেশ আশঙ্কা করছে, ওয়াশিংটন হয়তো আবারও প্রকাশ্য সামরিক হস্তক্ষেপের পথে ফিরছে। এই উদ্বেগ সবচেয়ে বেশি প্রকট দেখা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিবেশী মেক্সিকোতে।
ভেনেজুয়েলায় গত শনিবার ভোররাতে অভিযানের পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মেক্সিকো, কিউবা ও কলম্বিয়ার নাম উল্লেখ করেন। অভিযানে কয়েক ডজন মানুষের প্রাণহানি ঘটে এবং আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠে। ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন, মাদকপাচার রোধের অজুহাতে যুক্তরাষ্ট্র মেক্সিকোর ভূখণ্ডেও সামরিক অভিযান চালাতে পারে।
মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিয়া শেইনবাউম এই হুমকির জবাবে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। তিনি বলেন, মেক্সিকোতে জনগণই ক্ষমতার উৎস এবং অন্য দেশের হস্তক্ষেপকে স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করা হবে। শেইনবাউম নিশ্চিত করেছেন, সহযোগিতা হতে পারে, কিন্তু অধীনতা বা বাহ্যিক হস্তক্ষেপ কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়।
ইতিহাসগতভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষা করতে গিয়ে মেক্সিকোর নেতাদের সবসময়ই সূক্ষ্ম ভারসাম্য বজায় রাখতে হয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের সাম্প্রতিক বক্তব্য ও হুমকি সেই ভারসাম্য আরও কঠিন করেছে। কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মেক্সিকোর ইতিহাসের অধ্যাপক পাবলো পিকাতো আল-জাজিরা মনে করিয়ে দিয়েছেন, ১৮৪৬ সালে যুক্তরাষ্ট্র মেক্সিকোর বিরুদ্ধে যুদ্ধে জয়ী হয়ে ব্যাপক ভূমি অধিগ্রহণ করেছিল। পরবর্তীতে মেক্সিকান বিপ্লব ও বিভিন্ন সময়েও যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ দেশটির ইতিহাসে গভীর ছাপ রেখেছে।
ট্রাম্প সাম্প্রতিক বক্তব্যে মনরো নীতি উল্লেখ করেছেন, যা ১৯শ শতকে যুক্তরাষ্ট্র পশ্চিম গোলার্ধে প্রাধান্য দাবি করতো। তিনি এটিকে ব্যঙ্গ করে ‘ডনরো ডকট্রিন’ বলে উল্লেখ করেছেন। তবে মেক্সিকো-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের বিভিন্ন ক্ষেত্রে, যেমন অভিবাসন, নিরাপত্তা ও বাণিজ্য, সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে। গত ফেব্রুয়ারিতে ট্রাম্পের শুল্ক হুমকির পর মেক্সিকো সীমান্তে ১০ হাজার ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েন করা হয়।
শেইনবাউম স্পষ্ট করে বলেছেন, মেক্সিকোর ভূখণ্ডে একতরফা মার্কিন সামরিক অভিযান মেনে নেওয়া হবে না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভেনেজুয়েলায় হামলা ট্রাম্প প্রশাসনের আগ্রাসী অবস্থানকে আরও স্পষ্ট করেছে। মেক্সিকো সরকারের সঙ্গে সহযোগিতা সর্বোচ্চ চেষ্টা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রের হুমকিকে হালকাভাবে নেওয়া যায় না।




