ঢাকা | বৃহস্পতিবার
৫ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
২২শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ফেলানীর ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় পরিবার

ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়া বাংলাদেশি কিশোরী ফেলানী খাতুনের ১৫তম মৃত্যুবার্ষিকী  পালিত হলো আজ। ২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী সীমান্তে বিএসএফের সদস্য অমিয় ঘোষ কিশোরী ফেলানীকে গুলি করে হত্যা করে। গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তার মরদেহ কয়েক ঘণ্টা কাঁটাতারে ঝুলে থাকা দৃশ্য দেশ-বিদেশের গণমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছিল।

হত্যার ১৫ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনও তার পরিবার ন্যায়বিচার পায়নি। ভারতের উচ্চ আদালতে মামলা ঝুলে থাকার কারণে দীর্ঘ সময় ধরে তারা অপেক্ষা করছেন। ফেলানীর বাবা নুর ইসলাম জানান, মেয়ের হত্যার বিচার না পাওয়ার কারণে সীমান্তে এখনও মানুষ নিহত হচ্ছে। তিনি আশা করছেন, বিচার নিশ্চিত হলে আর কোনো বিএসএফ সদস্যের এই ধরনের সহিংসতার সাহস থাকবে না।

ফেলানীর মা জাহানারা বেগম বলেন, মেয়েকে হত্যা করা হয়েছিল যখন তিনি ভারতে ছিলেন। স্বামী মেয়েকে দেশে ফেরানোর পথে সীমান্তে কাঁটাতার পার করার সময় বিএসএফ গুলি চালায়, যার ফলে ফেলানী প্রাণ হারায়। তিনি বর্তমান সরকারের কাছে ফেলানী হত্যার সঠিক বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

হত্যার পর ২০১৩ সালের ১৩ আগস্ট ভারতের কোচবিহারে বিএসএফের বিশেষ আদালতে বিচার কার্যক্রম শুরু হয়। ৬ সেপ্টেম্বর অভিযুক্ত অমিয় ঘোষ বেকসুর খালাস পান। বিজিবির আপত্তিতে ২০১৪ সালের ২২ সেপ্টেম্বর পুনরায় বিচার শুরু হলেও খালাসই দেন আদালত। ২০১৫ সালের ১৪ জুলাই ভারতের মানবাধিকার সংগঠন মাসুমের মাধ্যমে নুর ইসলাম ভারতের উচ্চ আদালতে রিট আবেদন করেন। মামলাটির বিভিন্ন শুনানির তারিখ নির্ধারিত হলেও এখনো তা নিষ্পত্তি হয়নি।

ফেলানী খাতুনের বয়স মাত্র ১৫ বছর ছিল। ১৯৯৬ সালে জন্ম নেওয়া এই কিশোরী পরিবারের সঙ্গে ভারতে বসবাস করছিলবিয়ের উদ্দেশ্যে দেশে ফেরার পথে সীমান্তে তার প্রাণহানি ঘটে। তার বাবা-মা ১৫ বছর ধরে ন্যায়বিচারের জন্য অপেক্ষা করছেন এবং এখনও মেয়ের হত্যার সঠিক বিচার আশা করছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন