আমাদের সমাজে দীর্ঘদিন ধরে মৃত ব্যক্তির কবরের ওপর খেজুরের ডাল বা গাছের শাখা পুঁতানোর প্রথা প্রচলিত। অনেকেই মনে করেন এটি সুন্নাহ এবং এর মাধ্যমে মৃতের কবরের আজাব মাফ হয়। তবে ইসলামী শিক্ষাবিদরা বলেন, এটি শুধুই রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর একটি বিশেষ মোজেজার ঘটনা।
সহীহ বুখারী ও মুসলিমে বর্ণিত, একবার রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দুটি কবরের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি ওহীর মাধ্যমে জানতে পারলেন, ওই দুই ব্যক্তির কবরের ওপর আজাব চলছে। তখন তিনি একটি তাজা খেজুরের ডাল ভেঙে দুটি কবরের ওপর পুঁতে দিলেন। সাহাবীরা এর কারণ জানতে চাইলে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, “আশা করা যায়, ডাল দুটি শুকিয়ে না যাওয়া পর্যন্ত তাদের আজাব কিছুটা লাঘব হবে।”
বেশিরভাগ আলেম মনে করেন, এটি দাফনের সময় প্রতিটি কবরের ওপর ডাল দেওয়া সুন্নাহ নয়। যদি কেউ বরকত হিসেবে বা মৃতের জন্য তাজা উদ্ভিদের তাসবিহ থেকে উপকারের উদ্দেশ্যে একটি ডাল পুঁতায়, তবে তা ‘জায়েজ’ বা বৈধ। তবে কবরের চার কোণায় ডাল দেওয়া, ফুল দিয়ে সাজানো বা মাজারের মতো জাঁকজমক করা ইসলামে সমর্থিত নয়।
শিক্ষাবিদদের মতে, মৃতের জন্য সবচেয়ে বেশি উপকারী হলো দোয়া, ইস্তেগফার ও দান-সদকা। কবরের প্রাকৃতিক পরিবেশ অক্ষুণ্ণ রাখা এবং লৌকিক বা কুসংস্কারের ওপর নির্ভর না করাই সুন্নাহ অনুযায়ী সর্বোত্তম পথ।




