জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) নির্বাচনে ৩৯টি কেন্দ্রের মধ্যে প্রথম ধাপের ১১টি কেন্দ্রের ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। এই ফলাফলে দেখা গেছে, ছাত্রদল সমর্থিত ভিপি পদপ্রার্থী এ কে এম রাকিব ১১৪২ ভোট পেয়ে শিবির সমর্থিত রিয়াজুল ইসলামকে ১১১ ভোটের ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন।
বুধবার সকাল সাড়ে ১১টায় জকসু নির্বাচন কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে এই ফলাফল ঘোষণা করে। বিভিন্ন বিভাগের কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফলে দুই পক্ষের মধ্যে ভোটের পার্থক্য লক্ষ্য করা গেছে। দর্শন বিভাগের একটি কেন্দ্রের ভোটে রিয়াজুল ১১১ ভোট পেয়ে রাকিবের ১৭৫ ভোটের পেছনে ছিলেন। জিএস ও এজিএস পদে শিবির প্রার্থীরা যথাক্রমে ১৩৫ ও ১১৯ ভোট পান, আর ছাত্রদল প্রার্থীরা পেয়েছেন ৮০ ও ১২৪ ভোট।
বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মোলিকুলার বায়োলজি কেন্দ্রে রিয়াজুল ৮৯ ভোট পেয়ে রাকিবের ৫৭ ভোটের সামান্য এগিয়ে থাকলেও, জিএস ও এজিএস পদে শিবির প্রার্থীদের ভোটের সংখ্যা ছাত্রদলের প্রার্থীর তুলনায় বেশি ছিল। চারুকলা অনুষদের তিন বিভাগের একক কেন্দ্রের ভোটে রাকিব ১০৬ ভোট পেয়ে রিয়াজুলের ২১ ভোটের ব্যবধানে এগিয়ে ছিলেন। জিএস ও এজিএস পদেও ছাত্রদলের প্রার্থীরা বেশি ভোট পান।
অনুজীববিজ্ঞান বিভাগের কেন্দ্রেও রিয়াজুল ৮৭ ভোট পেয়ে রাকিবের ৪৬ ভোটের চেয়ে এগিয়ে ছিলেন। শিবিরের জিএস প্রার্থী ৮৫ ভোট ও এজিএস প্রার্থী ৮১ ভোট পেয়েছেন, আর ছাত্রদল প্রার্থীরা যথাক্রমে ৩২ ও ৪০ ভোট পান।
ফিন্যান্স বিভাগের কেন্দ্রের ফলাফলে বিপরীত চিত্র দেখা গেছে। এখানে ভিপি পদে রাকিব ২৩১ ভোট পান, আর রিয়াজুল ১৩৮ ভোটে পিছিয়ে থাকেন। জিএস পদে শিবির প্রার্থী ১৬৩ ভোট পান, আর ছাত্রদল প্রার্থী ১১৩ ভোটে পিছিয়ে থাকেন। এজিএস পদেও শিবির প্রার্থী ১৬৩ ভোট পান, কিন্তু ছাত্রদলের আতিকুর রহমান তানজিল ১৭৮ ভোটে এগিয়ে থাকেন।
কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি, ভূগোল ও পরিবেশবিজ্ঞান, নৃবিজ্ঞান, লোকপ্রশাসন এবং ফার্মেসি বিভাগের কেন্দ্রগুলোর ভোটেও ভিপি, জিএস ও এজিএস পদে শিবির ও ছাত্রদলের মধ্যে ভোটের পার্থক্য লক্ষ্য করা গেছে। অনেক কেন্দ্রে শিবির প্রার্থীরা এগিয়ে থাকলেও, বেশ কিছু কেন্দ্রে ছাত্রদল প্রার্থীরা গুরুত্বপূর্ণ ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন।
নির্বাচনে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ছিল ভোটের মেশিনে সমস্যার কারণে ভোট গণনা সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়া। মঙ্গলবার রাত ৯টা ২০ মিনিটে এই প্রযুক্তিগত ত্রুটি দেখা দিলে নির্বাচন কমিশন ভোট গণনা স্থগিত করে। পরে সমস্যার সমাধান হলে দীর্ঘ বিরতির পর পুনরায় ভোট গণনা শুরু করা হয়।
প্রাথমিক ফলাফলের এই ধাপ দেখাচ্ছে যে, প্রতিটি কেন্দ্রে ভোটের ব্যবধান ভিন্ন হলেও, নির্বাচনের জন্য দুই পক্ষই জোরালো প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পরবর্তী কেন্দ্রগুলোর ভোট গণনা শেষে চূড়ান্ত ফলাফলে হঠাৎ কোনো পরিবর্তন আসতে পারে।




