নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সাম্প্রতিক এক সিদ্ধান্তকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিদেশি নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের থাকা-খাওয়ার ব্যয় বহনের সিদ্ধান্তকে নির্বাচনব্যবস্থার নিরপেক্ষতার পরিপন্থি, বৈষম্যমূলক ও অপরিণামদর্শী আখ্যা দিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটির মতে, এ ধরনের উদ্যোগ কর্তৃত্ববাদী চর্চাকে আরও পোক্ত করার ঝুঁকি তৈরি করছে।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, বিদেশি পর্যবেক্ষকদের সরব উপস্থিতি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা বাড়াবে—এমন যুক্তি দেখিয়ে ইসি যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা বাস্তবে উল্টো ফল বয়ে আনতে পারে। তাঁর ভাষায়, এ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে একটি স্পষ্ট বৈষম্য তৈরি হয়েছে, যা নির্বাচন কমিশনের অনুধাবনের বাইরে থাকায় তারা বিস্মিত। বিদেশি পর্যবেক্ষকদের ব্যয় বহন করা হলে দেশি পর্যবেক্ষকদের ক্ষেত্রে একই নীতি প্রযোজ্য হবে না কেন—এই প্রশ্নের সন্তোষজনক উত্তর ইসিকে দিতে হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি আরও বলেন, এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে সুবিধাপ্রাপ্ত পর্যবেক্ষকদের ‘ভাড়াটে’ হিসেবে বিবেচিত হওয়ার ঝুঁকি থাকবে। পাশাপাশি, নির্বাচন কমিশনের আতিথেয়তায় থেকে তারা কতটা স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও স্বার্থের দ্বন্দ্বমুক্তভাবে নির্বাচন মূল্যায়ন করতে পারবেন, তা নিয়েও গুরুতর সন্দেহ রয়েছে।
এ প্রসঙ্গে বিদেশি পর্যবেক্ষকদের উদ্দেশে প্রশ্ন তুলে টিআইবি জানায়, কোন যুক্তিতে তারা ইসি বা বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে এ ধরনের দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। নৈতিকতার মানদণ্ড ও স্বার্থের দ্বন্দ্ব বিবেচনায় রেখে আতিথেয়তা গ্রহণ করে নির্বাচন কমিশন ও পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়ার বস্তুনিষ্ঠ, পক্ষপাতহীন মূল্যায়ন আদৌ সম্ভব কি না—তা ভেবে দেখার আহ্বান জানানো হয়। টিআইবির প্রত্যাশা, বিদেশি পর্যবেক্ষকরা ইসির এ ধরনের আতিথেয়তা গ্রহণ থেকে বিরত থেকে দায়িত্ব পালন করবেন।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক আরও স্মরণ করিয়ে দেন, ২০০৮ বা তার আগে নির্বাচনকে বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ করতে রাষ্ট্রীয় অর্থ ব্যয় করে বিদেশি পর্যবেক্ষকদের সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার প্রয়োজন হয়নি। অথচ ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনে কেন এমন উদ্যোগ নিতে হয়েছিল, সে প্রশ্নে নির্বাচন কমিশনকে আগে আত্মজিজ্ঞাসা করার তাগিদ দেন তিনি।
তিনি বলেন, পতিত সরকারের আমলে বিদেশি পর্যবেক্ষকদের সুযোগ-সুবিধা দিয়ে নির্বাচনকে গ্রহণযোগ্য দেখানোর চেষ্টা কতটা সফল হয়েছিল, তা বর্তমান কমিশনের বিবেচনায় নেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর জনগণের মধ্যে যে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, সেটিকে বিতর্কিত করার পথ থেকে ইসি সরে আসবে—এমনটাই আশা করছে টিআইবি।




