ঢাকা | বৃহস্পতিবার
২৯শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৫ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মার্কিন আধিপত্যের নতুন অধ্যায়: ট্রাম্পের লক্ষ্য আর যেসব দেশ

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামরিক অভিযানের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নিজের আধিপত্য জোরদার করার পরিকল্পনা নিয়ে নতুন করে সংবাদ শিরোনামে উঠে এসেছেন। ভেনেজুয়েলায় নিকোলাস মাদুরোকে মোকাবিলা করার পর ট্রাম্প ‘ডনরো ডকট্রিন’ নামে একটি নীতি ঘোষণা করেছেন, যা পশ্চিম গোলার্ধে মার্কিন প্রভাব বৃদ্ধির লক্ষ্যে তৈরি। তবে এবার তার নজর শুধুমাত্র ভেনেজুয়েলায় সীমাবদ্ধ নেই। বিশ্বের আরও পাঁচটি দেশ বা অঞ্চল তার কৌশলগত লক্ষ্যতে পরিণত হয়েছে।

গ্রিনল্যান্ড
ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ড খনিজ সম্পদ ও কৌশলগত অবস্থানের কারণে ট্রাম্পের নজরে এসেছে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার স্বার্থে দ্বীপটি দখলের কথাও তুলেছেন। যদিও গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেন্স ফ্রেডরিক নিলসেন এবং ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডরিকসেন এই প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন, তবুও ট্রাম্পের বক্তব্য ন্যাটোর ভেতর উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে।

কলম্বিয়া
দক্ষিণ আমেরিকায় ট্রাম্পের পরবর্তী লক্ষ্য হতে পারে কলম্বিয়া। ভেনেজুয়েলার ঘটনার পর তিনি কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোকে সতর্ক করেছেন এবং মাদক চক্রে যুক্ত থাকার অভিযোগ তুলেছেন। সামরিক হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা প্রকাশ্যে উত্থাপনের কারণে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা বাড়ছে।

ইরান
মধ্যপ্রাচ্যে ট্রাম্পের দৃষ্টি এখন ইরানের দিকে। সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ও পারমাণবিক স্থাপনা নিয়ে তার কঠোর মন্তব্য আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা সতর্কভাবে দেখছেন। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকের পর, বিশেষজ্ঞরা ইরানের ওপর সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনাও পুরোপুরি উড়িয়ে দিচ্ছেন না।

মেক্সিকো
ট্রাম্প সীমান্ত নিরাপত্তা এবং মাদক পাচার ঠেকাতে মেক্সিকোর ওপর কড়া হস্তক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছেন। ক্ষমতায় ফিরে ‘মেক্সিকো উপসাগর’কে ‘আমেরিকা উপসাগর’ হিসেবে নাম পরিবর্তনের মতো বিতর্কিত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন।

কিউবা
কিউবার অর্থনৈতিক দুরবস্থা এবং ভেনেজুয়েলার তেলের উপর নির্ভরশীলতার কারণে ট্রাম্প মনে করেন সামরিক হস্তক্ষেপ এখন জরুরি নয়। তবে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও কিউবার সরকারের প্রতি সতর্ক বার্তা দিয়েছেন।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ডনরো ডকট্রিনের এই নতুন পরিসর ল্যাটিন আমেরিকা ও ইউরোপের দেশগুলোতে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। ট্রাম্পের কৌশল কেবল রাজনৈতিক নয়, সামরিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব বিস্তারেও এক নতুন মাত্রা যোগ করছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন