নিউ ইয়র্কের ফেডারেল আদালতের ২৬ তলায় সোমবার দুপুরে একটি বিরল দৃশ্য দেখা গেছে। সেখানে দর্শক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রায় ৫০ জন সাংবাদিক, সাধারণ দর্শক এবং যুক্তরাষ্ট্রের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ সংস্থার (ডিইএ) কয়েকজন কর্মকর্তা। মামলাটি এই সংস্থা দায়ের করেছে।
মাত্র কয়েক দিন আগে নিজের বিলাসবহুল প্রাসাদে সময় কাটানো নিকোলাস মাদুরো এখন আদালতের আসামি। সোমবার তার আদালতে উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো; কারাগারের নীল ও কমলা রঙের পোশাক পরে তিনি কক্ষে প্রবেশ করেন।
ফেডারেল আদালতের ইউএস মার্শালের দুই সদস্য মাদুরোকে কক্ষে আনার সময় সতর্কভাবে নেতৃত্ব দেন। কক্ষে প্রবেশের পর তিনি কয়েকজনের দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকান এবং তিন থেকে চারবার ‘হ্যাপি নিউ ইয়ার’ বলে শুভেচ্ছা জানান। পাশের ইউএস মার্শাল ও তার আইনজীবীর সঙ্গে করমর্দনও করেন।
মাদুরোর দুই আসন পরে ছিলেন তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেস। মামলায় তিনি অভিযুক্ত থাকলেও উপস্থিত ছিলেন। তার ডান চোখের পাশে ব্যান্ডেজ দেখা গেছে, ধারণা করা হচ্ছে সম্প্রতি তিনি আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছেন।
শুনানির সময় আদালত কক্ষে সাধারণত শান্তিপূর্ণ পরিবেশ থাকে, কিন্তু মাদুরো প্রতিটি সুযোগ কাজে লাগিয়ে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এখনও তিনি ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট। বিচারক প্রাথমিকভাবে মাদুরোকে তার নাম নিশ্চিত করতে বলেন, কিন্তু মাদুরো অভিযোগ করে বলেন, তিনি ‘ধরা পড়েছেন’ এবং ‘অপহৃত’। বিচারক তখন তাকে থামিয়ে শুধু নাম বলার নির্দেশ দেন।
শুনানি চলাকালীন দর্শকগ্যালারিতে উপস্থিত ব্যক্তিদের নীরব থাকার জন্য বলা হয়। তবে শুনানির শেষ মুহূর্তে এক ব্যক্তি, পেদ্রো রোহাস (৩৩), স্প্যানিশ ভাষায় চিৎকার করতে থাকেন। মাদুরোর সঙ্গে তার উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। রোহাস ২০১৯ সালে ভেনেজুয়েলা থেকে নির্বাসিত হয়েছেন এবং বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়ায় থাকেন।
রোহাস জানান, ‘আমি মাদুরোকে আগেও বলেছি, তার দায়ভার নিতে হবে। আজ (৫ জানুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্র তার বিচার শুরু করেছে। ভেনেজুয়েলায় নতুন এক যুগ শুরু হলো।’ তিনি আরও বলেন, ‘মাদুরো নিজেকে ‘ম্যান অব গড’ বলেছেন। আমি তাকে বলেছি, আমরাও ম্যান অব গড, কারণ আমরা কখনো চার্চে হামলা করিনি, যা তিনি বহুবার করেছেন।’
শুনানি শেষের পর মাদুরোকে একটি মোটরকেডে করে কারাগারে ফেরানো হয়। পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারিত হয়েছে মার্চ মাসে।




