ঢাকা | শুক্রবার
৩০শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৬ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সমুদ্রে গবেষণা ও সমস্যা চিহ্নিত করতে প্রধান উপদেষ্টার আহ্বান

বাংলাদেশের সমুদ্রবেষ্টিত অঞ্চলে পরিবেশগত ভারসাম্যহীনতা ও প্লাস্টিক দূষণের বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, সমুদ্রসম্পদ দেশের অর্থনীতির জন্য বিপুল সম্ভাবনা রাখলেও এ পর্যন্ত তা যথাযথভাবে কাজে লাগানো যায়নি।

মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদ ও ইকোসিস্টেম সম্পর্কিত গবেষণা প্রতিবেদন প্রধান উপদেষ্টার কাছে হস্তান্তর করা হয়। জরিপ ও গবেষণা পরিচালনা করেন গবেষণা জাহাজ ‘আরভি ডক্টর ফ্রিডজফ ন্যানসেন’-এর নেতৃত্বে ৮টি দেশের ২৫ জন বিজ্ঞানী, যার মধ্যে ১৩ জন ছিলেন বাংলাদেশি।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব মেরিন সায়েন্সেস-এর অধ্যাপক সায়েদুর রহমান চৌধুরী বৈঠকে গবেষণার মূল উপাত্ত উপস্থাপন করেন। তিনি জানান, ৬৫ প্রজাতির নতুন জলজ প্রাণী শনাক্ত করা গেলেও পরিবেশগত ভারসাম্যহীনতার শঙ্কাজনক চিত্র দেখা গেছে।

অধ্যাপক সায়েদুর রহমান বলেন, “বাংলাদেশের গভীর সমুদ্রে জেলিফিশের সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে, যা ভারসাম্যহীনতার লক্ষণ। ওভারফিশিংয়ের কারণে এই সমস্যা তৈরি হয়েছে।” এছাড়া দুই হাজার মিটার গভীরে প্লাস্টিক পাওয়া গেছে, যা বিশেষভাবে উদ্বেগের বিষয়। গবেষণায় দেখা গেছে, ২০১৮ সালের তুলনায় বড় মাছের সংখ্যা গভীর সমুদ্রে কমছে, এবং স্বল্প গভীরতাতেও মাছের সংখ্যা হ্রাস পাচ্ছে।

বৈঠকে জানানো হয়, গভীর সমুদ্রে ২৭০–২৮০টি বড় ট্রলার মাছ আহরণ করছে। এর মধ্যে ৭০টি ট্রলার ‘সোনার’ ব্যবহার করে ‘টার্গেটেড ফিশিং’ করছে, যা ক্ষুদ্র প্রজাতির জেলের জন্য ক্ষতিকর। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেন, “টার্গেটেড ফিশিং অব্যাহত থাকলে বঙ্গোপসাগর মাছশূন্য হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সরকার ‘সোনার ফিশিং’ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।”

তবে গবেষণায় টুনা মাছের সংখ্যার বৃদ্ধি এবং সুন্দরবনের নীচে একটি ‘ফিশিং নার্সারি’-র সন্ধান পাওয়ার খবরও এসেছে। সরকার এই এলাকায় সংরক্ষণমূলক পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “সামুদ্রিক সম্পদকে কার্যকরভাবে ব্যবহারের জন্য পর্যাপ্ত গবেষণা ও নীতি সহায়তা অপরিহার্য।” বৈঠকে জানানো হয়, যুক্তরাজ্যের রয়েল নেভির বহুমুখী সার্ভে ভেসেল ‘এইচএমএস এন্টারপ্রাইজ’ বাংলাদেশ নৌবাহিনীর কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়ায় রয়েছে, যা সমুদ্র গবেষণার সক্ষমতা বাড়াবে। তিনি জাপান, ইন্দোনেশিয়া ও মালদ্বীপের সঙ্গে যৌথ গবেষণার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন এবং বলেন, “বিশেষজ্ঞ জ্ঞানের সমন্বয় অর্থনীতির নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলবে।”

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী এবং মৎস্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ড. মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন।

সংবাদটি শেয়ার করুন