ঢাকা | বৃহস্পতিবার
২৯শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৫ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ফ্রান্সে ফার্স্ট লেডিকে সাইবার বুলিং এ ১০ জনকে দোষী সাব্যস্ত

ফ্রান্সের ফার্স্ট লেডি ব্রিজিত মাখোঁকে লক্ষ্য করে দীর্ঘদিন ধরে চালানো অনলাইন হয়রানি ও বিদ্বেষমূলক প্রচারের ঘটনায় প্যারিসের একটি আদালত ১০ জনকে দোষী ঘোষণা করেছে। আদালতের মতে, এসব কর্মকাণ্ড ছিল পরিকল্পিত ও অপমানজনক।

মামলার নথি অনুযায়ী, অভিযুক্তরা ব্রিজিত মাখোঁর লৈঙ্গিক পরিচয় নিয়ে ভুয়া তথ্য ছড়ানো ছাড়াও তাঁর ও প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁর বয়সের পার্থক্য নিয়ে বিদ্বেষপূর্ণ মন্তব্য করেন। এই অপপ্রচার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।

বিবিসির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, দোষী সাব্যস্তদের অধিকাংশকে সর্বোচ্চ আট মাসের স্থগিত কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তবে আদালতে অনুপস্থিত থাকার কারণে একজনকে তাৎক্ষণিকভাবে কারাগারে পাঠানো হয়। পাশাপাশি কয়েকজনের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট সাময়িকভাবে স্থগিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রায়ে বিচারক বলেন, অভিযুক্ত আট পুরুষ ও দুই নারী ইচ্ছাকৃতভাবে ব্রিজিত মাখোঁকে হেয় করতে অত্যন্ত কুরুচিপূর্ণ ভাষা ব্যবহার করেছেন, যা স্পষ্টতই সাইবার বুলিংয়ের অন্তর্ভুক্ত।

এই মামলার আসামিদের মধ্যে নাতাচা রে ও আমান্দিন রয় নামের দুজন আগে নিজেদের স্বাধীন সাংবাদিক ও অনলাইন ভবিষ্যদ্বক্তা বলে পরিচয় দিতেন। ২০২৪ সালে তাঁরা মানহানির মামলায় দোষী সাব্যস্ত হলেও পরে আপিল আদালতে খালাস পান।

তাঁদের সেই দাবিতে বলা হয়েছিল, ব্রিজিত মাখোঁ নামে আদতে কোনো ব্যক্তি নেই এবং তাঁর ভাই জ্যঁ-মিশেল ত্রোনিয়ে লিঙ্গ পরিবর্তনের মাধ্যমে এই পরিচয় গ্রহণ করেছেন। আপিল আদালত তখন যুক্তি দেয়, কারও লিঙ্গ পরিবর্তনের কথা বলা সরাসরি সম্মানহানির শামিল নয়।

তবে মাখোঁ দম্পতি এই রায়ে সন্তুষ্ট না হয়ে বিষয়টি সর্বোচ্চ আপিল আদালতে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানা গেছে।

এএফপির বরাতে জানা যায়, রায়ের পর ব্রিজিত মাখোঁর আইনজীবী জ্যঁ এনোকি বলেন, শাস্তির চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো অভিযুক্তদের সচেতনতামূলক কোর্সে পাঠানো এবং অনলাইন প্ল্যাটফর্মে তাঁদের কার্যক্রম সীমিত করা।

বিচার চলাকালে ব্রিজিতের আগের সংসারের মেয়ে তিফাঁ অজিয়ের সাক্ষ্য দিয়ে জানান, দীর্ঘদিনের সাইবার বুলিং তাঁর মায়ের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর গভীর প্রভাব ফেলেছে। এখন পোশাক নির্বাচন থেকে শুরু করে প্রকাশ্যে চলাফেরা—সব ক্ষেত্রেই তাঁকে অতিরিক্ত সতর্ক থাকতে হয়।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে ইমানুয়েল মাখোঁ প্রথমবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই ব্রিজিত মাখোঁকে নিয়ে ট্রান্সজেন্ডার সংক্রান্ত ষড়যন্ত্রমূলক তত্ত্ব অনলাইনে ছড়াতে থাকে। শিক্ষকতা জীবনে পরিচয়ের পর ২০০৭ সালে তাঁদের বিয়ে হয়, যা শুরু থেকেই সামাজিক মাধ্যমে নানা বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে আছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন